টাইসনের কাছে ৫ ঘুষিতে কুপোকাত - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

টাইসনের কাছে ৫ ঘুষিতে কুপোকাত 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১০, ২০২৪

ক্রীড়া ডেস্ক ॥  কোনো খেলোয়াড় তাঁর হেরে যাওয়া ম্যাচের গল্প এত আনন্দ নিয়ে করতে পারেন, সেটি জুলিয়াস ফ্রান্সিসকে না দেখলে কেউ বিশ্বাসই করতে পারবেন না। ২৪ বছর আগে ম্যাচটি হেরেছিলেন সে সময়ের ব্রিটিশ হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন। ম্যানচেস্টার অ্যারেনায় সেদিন এমন বিপর্যস্ত হয়ে ফ্রান্সিস হেরেছিলেন, ম্যাচটি তাঁর ভুলে থাকতে চাওয়াই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু তার পরও সেই দিনটি, সেই মুহূর্তটি নাকি তাঁর জীবনের সেরা! ব্রিটিশ হেভিওয়েট বক্সার ফ্রান্সিস হোটেল লা মেরিডিয়ানের ছাদে বসে যখন কথাগুলো বলছিলেন, তাঁর চোখেমুখে তৃপ্তির একটা আভা। অথচ সাবেক কমনওয়েলথ বক্সিং চ্যাম্পিয়নের সেই ম্যাচে তৃপ্তি পাওয়ার মতো কিছু ছিলই না। সেই ম্যাচে তিনি হেরেছিলেন মাইক টাইসনের কাছে। মাত্র পাঁচ ঘুষিতেই সেই ম্যাচটা শেষ করেছিলেন হেভিওয়েট বক্সিংয়ের কিংবদন্তি টাইসন। জুলিয়াস ফ্রান্সিস ঢাকায় এসেছেন বাংলাদেশ প্রফেশনাল বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের আমন্ত্রণে। হোটেল লা মেরিডিয়ানের ছাদে বসেছিল পেশাদার বক্সিংয়ের এক আয়োজন। ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাউন্সিল (ডব্লুবিসি) ও ওয়ার্ল্ড বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লুবিএ) বেল্টের লড়াই। সেখানেই অতিথি হয়ে এসেছেন সাবেক এই ব্রিটিশ হেভিওয়েট বক্সার। ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি ম্যানচেস্টারে সেই লড়াইয়ে ফ্রান্সিসকে পাঁচটি দশাসই ঘুষি হাঁকান মাইক টাইসন। ফ্রান্সিস কাল নিজেই সেই ঘুষির বর্ণনা দিলেন, ‘ভয়াবহ ছিল সেই ঘুষিগুলো। আমার মাথা ঘোরা শুরু করেছিল। ৫৮ সেকেন্ড লড়েছিলাম টাইসনের বিপক্ষে। রেফারি আমার জীবন বাঁচিয়েছেন। আর দুটি ঘুষি খেলে আমি হয়তো আর এখানে থাকতাম না।’ ভয়াবহ এই বর্ণনা দেওয়ার সময় ফ্রান্সিস হাসছিলেন। ঘুষি খেতে এত মজা? এমন প্রশ্নে প্রশ্নকারীর বোকামিতে যেন অবাক ব্রিটিশ হেভিওয়েট, ‘আরে ওই সময় মাইক টাইসনের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম বুকের পাটা ছিল বলেই। আর আমার কাছে সেই লড়াইটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। আমি জিতব না, জেনেই নেমেছিলাম। তবে বক্সিং ম্যাচটা মাত্র চার মিনিট স্থায়ী হয়েছিল বলে কিছুটা লজ্জা পেয়েছিলাম। হাজার হোক, লোকে তো টিকিট কেটে ম্যাচটা দেখতে এসেছিল।’ টাইসনের সঙ্গে লড়াইয়ের সেই স্মৃতি তো এমনিতেই ভোলার বিষয় নয়। তার ওপর ম্যাচটা তাঁর মনে বিশেষ দাগ কেটে আছে আরেকটি কারণে। তার কিছুদিনের মধ্যেই যে ছেলের বাবা হয়েছিলেন ফ্রান্সিস, ‘টাইসনের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সময় ২৪ বছরে পা রেখেছি। আমার ছেলের জন্মও ২০০০ সালেই।’