জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় বিএনপির আলোচনা ও দোয়া মাহফিল - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় বিএনপির আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ২, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (০১ জুন) বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান এর শাহাদাৎ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সার্বিক সঞ্চালনা করেন সদস্য ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ইসমাইল হোসেন মুরাদ ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব প্রমূখ। এতে জেলা বিএনপি, উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বলেন, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে চুরি বাটপারি করেছে। উন্নয়নের নামে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। টানা ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকেছে, অথচ এদেশের জনগণ তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমুচিত জবাব দিয়েছে। ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানে তাদের পতন হয়েছে। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা নিজেরা যদি অসৎ থাকি, নিজেরা যদি চুরি, বাটপারি, চাঁদাবাজির মধ্যে লিপ্ত থাকি কিংবা মানুষকে ঠকানোর চিন্তা করি, তাহলে কোন দিনই আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শে আদর্শবান হতে পারবো না। তাই আমাদের সবাইকে তার সততার আদর্শ অনুসরন করে আগামী দিনে পথ চলতে হবে। 

 

এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ছিল মানুষের কল্যাণে কাজ করা। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় রাষ্ট্রনায়ক। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর সাহসী ভূমিকা, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং পরবর্তী সময়ে দেশ পুনর্গঠনে তাঁর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি এমন এক সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, যখন দেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ছিল। দূরদর্শী নেতৃত্ব, কঠোর পরিশ্রম ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমানে তারই সুযোগ্য সন্তান আমাদের দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতার দেখানো পথে হাটছেন। দেশের উন্নয়নে দিন রাত পরিশ্রম করে চলেছেন। তাই আমরা যারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শে রাজনীতি করি, সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি কুষ্টিয়ার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। 

 

এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, জিয়াউর রহমানের সততা, দেশপ্রেম ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো সবার জন্য অনুকরণীয়। উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্টের আদর্শ ধারণ করে দেশে সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা যেমন জয়ী হয়ে এসেছি, ঠিক একইভাবে আমাদের কাজ ও লক্ষ্যগুলো সফল করার মাধ্যমে একটি সফল সরকার বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হতে হবে। জনগণের দৃষ্টিতে আমাদের দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সফল সরকার হতে হবে। এর জন্য সকলে ঐকবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে। 

 

জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন,  শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শকে শক্তিশালী করতে তাঁর অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। 

 

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। একদলীয় শাসন থেকে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থেকে দেশকে উদ্ধার করে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলায় তার অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। 

 

অনুষ্ঠান শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে দেশ, জাতি এবং জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।