জিকে সেচ প্রকল্প তিন জেলায় কমিয়েছে ডিজেলের চাপ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

জিকে সেচ প্রকল্প তিন জেলায় কমিয়েছে ডিজেলের চাপ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ৪, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদরের উজানগ্রামে বাড়ি হাছেন মণ্ডলের। চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন এই কৃষক। গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের আওতায় থাকায় জমিতে পানি পাচ্ছেন তিনি। যে কারণে অন্য কৃষকের মতো তাঁকে ডিজেল বা সেচ নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে না। একেবারেই কম খরচে জিকে সেচ প্রকল্পের পানি পেয়ে নির্ভার হাছেন মণ্ডল।

এই চাষির মতো কুষ্টিয়াসহ তিন জেলার কৃষকরা চলতি বছর জিকে প্রকল্পের সেচ সুবিধা পাচ্ছেন। অন্য জেলার কৃষকদের যেখানে সেচ পাম্পের ডিজেলের জন্য লম্বা লাইন ও বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে, সেখানে জিকে প্রকল্পের আওতাধীন জেলাগুলোর ৭ উপজেলার চাষি সেচের পানি পাচ্ছেন অল্প খরচেই।  কুষ্টিয়া খামারবাড়ির উপপরিচালক শওকত হোসেন ভূঁইয়ার দেওয়া তথ্যমতে, কুষ্টিয়ার ১০ হাজার হেক্টর বোরো জমি জিকে প্রকল্পের সেচ সুবিধা পাচ্ছে। সব মিলিয়ে সেচ সুবিধা পাচ্ছে ২৫ হাজার হেক্টর বোরো জমি। জিকের পানি যারা ব্যবহার করছেন তাদের অর্থ ও জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে।

এর আওতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। এদিকে ডিজেলের ওপর চাপ কমাতে কীভাবে জিকে সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক কৃষকের জমিতে পানি সরবরাহ করা যায়, তা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে জেলা প্রশাসন, কৃষি দপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ জন্য সেচ ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতা ও কৃষকদের নিয়ে পরামর্শ সভা হয়েছে। ৩০ মার্চ সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ অফিসের হলরুমে আয়োজিত সভায় সেচের পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতারা ছাড়াও কৃষকরা তাদের সমস্যা তুলে ধরেন। কৃষকরা সময়মতো পানি সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দেন।

পাশাপাশি সেচ খালগুলো নিয়মিত সংস্কার, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও কৃষকের কাছ থেকে সেচের টাকা আদায়ে জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া নতুন করে খাল খননের মাধ্যমে জিকের সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শও দেন কৃষকরা। আইলচারা ইউনিয়নের সেচ ব্যবস্থাপনা দলের সভাপতি মোসলেম শেখ জিকে প্রকল্পের পানি দিয়ে ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করছেন। তিনি বলেন, পানি নিয়ে তাদের এ বছর চিন্তা নেই। তবে খাজানগর ও আইলচারায় বেশ কয়েকটি খাল চালকলের বর্জ্যের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব বর্জ্য যাতে খালে না ফেলা হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জিকে প্রকল্পের পানির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অন্য কৃষকরা। তাদের ভাষ্য, পানির সঠিক ব্যবহার করা গেলে আবাদ ও ফলন দুটিই বাড়বে। যেসব অঞ্চলে খাল ভরাট ও দখল হয়ে গেছে সেগুলো উদ্ধার করে সেচের আওতায় আনা গেলে এটি সম্ভব। সেচ ব্যবস্থাপনা দল ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানিয়েছেন, ভেড়ামারায় মূল স্টেশন থেকে পদ্মার পানি দুটি বৃহৎ পাম্পের মাধ্যমে খালে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এবার দুটি পাম্প সচল থাকায় পানি পেতে সমস্যা হচ্ছে না। যে কারণে বোরো ক্ষেতে সেচ নিয়ে কৃষকের চিন্তা নেই। এ বছরের শুরুতেই পানি পেয়েছেন। ফলে জ্বালানি ও টাকা সাশ্রয় হয়েছে। চার জেলা নিয়ে গঠিত সেচ ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনের সভাপতি শাফায়েত হোসেন পল্টুর ভাষ্য, এ প্রকল্পের আওতায় চার জেলার কৃষকের সেচ সুবিধা পাওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত তিনটি জেলার কৃষক বোরো ক্ষেতে পানি পাচ্ছেন।

কিছু এলাকার মাঠে শীতকালীন পেঁয়াজসহ  অন্যান্য ফসল আছে। এসব এলাকায় একটু  দেরিতে সেচ দেওয়া হবে। তেল সংকটের এই সময়ে জিকের পানি সঠিকভাবে পাচ্ছেন বলে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। কুষ্টিয়া পাউবোর নির্বাহী পরিচালক রশিদুর রহমান বাপ্পি বলেন, দুটি পাম্পের মাধ্যমে তারা তিনটি জেলায় সেচের পানি সরবরাহ করছেন। এ বছর পানি পেতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কৃষক ও সেচ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরা সর্বশেষ সভায় বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

সেগুলো আমলে নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এই মুহূর্তে ডিজেলের ওপর চাপ কমানোয় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, কৃষকের স্বার্থ চিন্তা করে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জিকে প্রকল্পের মাধ্যমে যাতে কৃষকরা বেশি পরিমাণ জমিতে সেচ দিতে পারেন, সে বিষয়টি এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সবার সহায়তা চান তিনি।