জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে দানের টাকা জোরপূর্বক নেওয়ার অভিযোগ! - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে দানের টাকা জোরপূর্বক নেওয়ার অভিযোগ!

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ৩০, ২০২৬

ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঝাউদিয়া শাহী মসজিদের দানের অর্থ জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গত শুক্রবার বিকেলে মসজিদ প্রাঙ্গণে ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি শুক্রবারের মতো ওইদিনও মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা মানত ও দান-খয়রাত করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, ওইদিন নগদ অর্থসহ পশু-পাখি ও কৃষিপণ্য মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার টাকার দান সংগ্রহ হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধির দায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা করম আলী অভিযোগ করেন, বিকেলের দিকে জামায়াত সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের নতুন কমিটির পরিচয় দিয়ে দানের অর্থ গ্রহণের কথা বলেন এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক তা নিয়ে যান।

অভিযুক্তদের মধ্যে হায়াত আলী বিশ্বাস, রুহুল আমিন রোকনসহ ৫-৭ জন উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান। তিনি এ ঘটনাকে অনৈতিক ও বেআইনি উল্লেখ করে দ্রুত অর্থ ফেরতের দাবি জানান এবং অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হায়াত আলী বিশ্বাস ও রুহুল আমিন রোকনের নেতৃত্বে একটি দল মসজিদে প্রবেশ করে। তাদের সঙ্গে ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর বাবর আলী ও সেক্রেটারি ছলিমসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তারা শুধু নগদ অর্থই নয়, মানতের পশু-পাখি ও কৃষিপণ্যও নিয়ে যান। এতে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। তাদের দাবি, জোরপূর্বক কিছু নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ পরিচালনায় অনিয়ম, দানের অর্থের স্বচ্ছতার অভাব এবং সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া থাকার কারণে ক্ষোভ থেকে কিছু অর্থ নেওয়া হয়েছিল। তারা আরও জানান, নারী মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট সুবিধা নেই এবং মসজিদের অবকাঠামোগত উন্নয়নও দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত।

এসব বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও তারা অভিযোগ করেন। অভিযুক্তদের ভাষ্যমতে, মানতের পশু বিক্রির অর্থ সংশ্লিষ্টদের কাছেই রয়েছে এবং পরবর্তীতে সব হিসাব স্বচ্ছভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ জামান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান জানান, বিষয়টি জানার পর দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ কুষ্টিয়া জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা, যা বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত। প্রতি শুক্রবার এখানে বিপুল পরিমাণ দান-খয়রাত হয়, যা স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে অনিয়মের প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগে সমালোচনা করছেন। স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শনাক্তকরণ এবং দানের অর্থের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মসজিদের সার্বিক উন্নয়ন ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও, সুষ্ঠু সমাধান না হলে ভবিষ্যতে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।