জামায়াত এমপি আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

জামায়াত এমপি আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২, ২০২৬

ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশের দাবি

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী ইসলামী বক্তা আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন এক আইনজীবী। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখার বিনিময়ে তাকে দেয়া ‘৫০ কোটি টাকার ঘুষের অফার’ প্রদানকারীদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিতে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলা জজকোর্টের বিএনপিপন্থী আইনজীবী আব্দুল মজিদ এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে আমির হামজাকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের পরিচয় প্রকাশ অথবা তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, আমির হামজা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন যে, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখার জন্য মাত্র ৩ দিনে তাকে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন এবং বলেছিলেন, পুরো কুষ্টিয়া লিখে দিলেও তাকে তার অবস্থান থেকে সরানো যাবে না।

তার এই বক্তব্য গত ফেব্রুয়ারি মাসে ‘ জাতীয়, স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রীয় ও শরীয়াহ আইন অনুযায়ী ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়ই সমান অপরাধী। সংসদ সদস্য আমির হামজা নিজে ভালো মানুষ সাজার জন্য ঘুষ গ্রহণ না করার কথা প্রচার করলেও, যারা এই বিশাল অঙ্কের ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিল তাদের নাম প্রকাশ করেননি। অপরাধীদের নাম গোপন রাখা বা তাদের আইনের হাতে তুলে না দেয়া আইনের দৃষ্টিতে অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার শামিল।

আইনজীবীর দাবি, বর্তমান সরকার যখন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে, তখন একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্য হিসেবে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের আড়াল করা কাম্য নয়। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং কুষ্টিয়াবাসীর কাছে দেয়া অঙ্গীকার রক্ষায় আগামী ৭ দিনের মধ্যে ওই ব্যক্তিদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

তবে এ বিষয়ে এমপি আমীর হামজার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই লিগ্যাল নোটিশের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কুষ্টিয়া জুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন- কারা সেই প্রভাবশালী ব্যক্তি, যারা একটি মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখতে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেয়ার সাহস দেখিয়েছে?