মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের বুরাপাড়া গ্রামে গুজবকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বল্টু মোল্লার মৃত্যুর মিথ্যা গুজবকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও নারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে হঠাৎ করে এলাকায় বল্টু মোল্লার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।
পরে জানা যায়, খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াতের একদল কর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঘরে থাকা নারীদের ওপরও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার সময় অধিকাংশ পুরুষ সদস্য বাড়িতে না থাকায় নারীরা একপ্রকার অসহায় অবস্থায় পড়েন। এ সুযোগেই হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায় বলে জানা গেছে। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে বিএনপির এক কর্মী গুরুতর আহত হন এবং তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যার ভিত্তিতে পুলিশ ২১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয়দের ধারণা, ওই সংঘর্ষের জের ধরেই প্রতিশোধমূলকভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালানো হয়েছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আমলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নাসিম রেজা মুকুল বলেন, আমি ঘটনাটি সরাসরি দেখিনি, তাই কারা করেছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে শুনেছি ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, আমলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আজ (গতকাল) সকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে লুটপাট, ভাঙচুর ও নারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি, তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
