হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম মুশতাক হোসেন মাসুদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ তুলেছেন হাটশ হরিপুরের মৃত মোবারক আলী শেখের ছেলে শিপন আলী ।

হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ
ভুক্তভোগী শিপন আলী জানান, ১৯৫৮ সালে তার বাবা ৭৯ শতক জমি ক্রয় করেন এবং সেই জমি থেকে ৩৩ শতক জমি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিকট বিক্রয় করেন এবং যেখানে বর্তমানে হাটশ হরিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অবস্থিত। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের ভূলের কারনে ৫৭৫নং খতিয়ানের ৭৬২ নং দাগের ৩৭ শতক আরএস রেকর্ড ঐ জমি সরকারী খাস জমি হিসাবে নথিভূক্ত হয়ে যায়। যা নিয়ে আদালতে ১৯৯৮ সালে কুষ্টিয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা করেন জমির মালিকদের পক্ষ থেকে মামলা করেন শিপন আলী’র চাচাতো ভাই আমজাদ হোসেন, যার মামলা নং-২৩১/১৯৯৮। এই মামলায় ২০০৩ সালের শেষের দিকে আদালতের রায় শিপন আলীদের পক্ষ যায় ।
এছাড়াও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে হাটশ হরিপুর বাজারের জন্য উক্ত জমি অধিগ্রহনের জন্য দাবী করলে শিপন আলী ও অনান্য শরিকেরা মিলে আদালতে মামলা করেন এবং ২০১৭ সালে সেই মামলার রায়ও শিপন আলীদের পক্ষ হয় ।
১৯৯৮ সালের মামলার রায় সরকার পক্ষে না হাওয়ার কারণে সরকার পক্ষ ঐ জমি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে আপিল করেন এবং সেই মামলার বিচার কার্য বর্তমানে চলমান আছে। এদিকে এই জমি ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম মুশতাক হোসেন মাসুদ বেশ কয়েকবার জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা করেছেন।
সর্বশেষ কয়েক সপ্তাহ আগে ঐ জায়গায় ইট, বালি এবং অনান্য নির্মাণ সামগ্রী এনে দোকান নির্মানেরও চেষ্টা করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম মুশতাক হোসেন মাসুদ। মালিক পক্ষের বাধার কারনে এবং প্রশাসনিক তৎপরতার কারনে যা আপাতত বন্ধ রয়েছে ।
এই বিষয়ে উল্লেখিত জমির অংশীদারদের পক্ষ থেকে শিপন আলী জানান, হরিপুর শেখ রাসেল সংযোগ সেতু হাওয়ার কারনে রাতারাতি জমির মূল্য বেড়ে কাঠা প্রতি বর্তমান মূল্য ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা। এছাড়াও জমিটি হরিপুর বাজারের মধ্যে হাওয়ায় এই জমির অনেক চাহিদা। চলমান মামলার সুযোগ এবং নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন এই জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছে। যা নিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগও দেওয়া হয়েছিলো এবং মে মাসের শেষের দিকে থানায় বসা হয়েছিলো। সেখানে তারা কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন নাই। চেয়ারম্যান ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হাওয়ার কারণে আমরা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি, যে কোন সময়ে আমাদের জান ও মালের ক্ষতিসাধন করতে পারে ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উল্লেখিত জমির আশে পাশে ইটসহ অনান্য নির্মান সামগ্রী রয়েছে এবং ভবন নির্মানের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে পিলার। ফাঁকা জমিতে চাষ করা হচ্ছে সবজি এবং চেয়ারম্যান প্রভাবশালী হাওয়ার কারণে এই বিষয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলছে না ।
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম মুশতাক হোসেন মাসুদ বলেন- সরকারী জমি আমি দখল করার কিডা। সরকারের জামি আমার দেখার দায়িত্ব এই কয় বছর। সরকারী জমি দখল করার এখতিয়ার কি আমার আছে। এই জমি উনাদের না। এই জমি নিয়ে উনারা আমার নামে মামলাও করেছে তার জবাবও দেবোনে, সেই দলিলও পাওয়া গেছে। এসএ রেকর্ড সরকারের নামে, সিএস রেকর্ড ধরে জমি উনি কিভাবে পাবে। আমরা রেডি হচ্ছি ঈদের পরে কোর্টে জবাব দিবো ।
এই বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, এই বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে জানলাম। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এই বিষয়ে কুষ্টিয়া সদরের সহকারী ভূমি কমিশনার দবির উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছিলাম। বর্তমানে কাজ বন্ধ আছে।
