বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। গতকাল রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত এ সভায় তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মনোনয়ন প্রক্রিয়া, তৃণমূলের প্রত্যাশা ও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বশিরুল আলম চাঁদ, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম রিন্টু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর সিদ্দীক, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চুসহ আরও অনেকে।
সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু। মতবিনিময় সভায় অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, রাজপথেই আমার রাজনীতি, জনগণই আমার শক্তি” গত ১৭ বছর ধরে কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্যাতন, মামলা, হামলা, গুম-খুনের ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে দিন কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, “৩৬ জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন দেশের রাজনীতিতে নতুন স্বাধীনতার স্বাদ এনে দিয়েছে। এই আন্দোলনে আমি রাজপথে থেকে সবসময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছিলাম।” তিনি বলেন, বিএনপির সাম্প্রতিক প্রকাশিত সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা এখনো চূড়ান্ত নয়। তালিকার পর থেকেই তৃণমূল নেতাকর্মীরা তার সমর্থনে মশাল মিছিল, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তাদের এই ভালোবাসা আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”
অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, “আমি বিএনপি করি, বিএনপির বাইরের কেউ নই। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, আমি সর্বোচ্চ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করব। আর দল যদি বিবেচনা না করে, তাহলে জনগণের মতামত মেনেই কাজ করব। সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্তই আমার কাছে সবচেয়ে বড়।” তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়া-৩ আসনের মানুষ তাকে যেভাবে মূল্যায়ন করছে-তা একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য গর্বের। “জনগণের ভালোবাসা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের আন্দোলন আমাকে নতুন উদ্যম দিয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, কুষ্টিয়ার উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আমি নির্ভরযোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারব। তিনি এ সময় জানান, আমি বিএনপি করি, বিএনপির বাহিরে নয়। মনোনয়ন নিয়ে আমাকে যারা ভালোবাসে তারা আন্দোলন করছে। কারণ সাধারণ জনগণ জনতো কুষ্টিয়ায় মনোনয়ন তিনিই পাবেন। দলীয় ভাবে তিনি মনোনয়ন না পেলে সাধারণ জনগন যে সিদ্ধান্ত দিবেন তিনি জনগনের সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন।
কুষ্টিয়া-৩ আসনে সম্প্রতি বেশ কয়েক দফা মশাল মিছিল, বিক্ষোভ এবং মানববন্ধনের মাধ্যমে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনকে বিএনপির প্রার্থী করার দাবি জানান স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটাররা। প্রেস ক্লাবের মতবিনিময় সভায়ও বক্তারা বলেন, সোহরাব উদ্দিনই এই আসনে বিএনপির সবচেয়ে জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য এবং রাজপথে পরীক্ষিত নেতা। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও চাপের মধ্যেও কুষ্টিয়া-৩ আসনে তৃণমূল পর্যায়ে সোহরাব উদ্দিনের প্রতি যে সমর্থন দেখা যাচ্ছে, তা দলীয় সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। মতবিনিময় সভার পুরোটা জুড়েই ছিল আত্মবিশ্বাসী কিন্তু বিনয়ী সোহরাব উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি দলকে সম্মান করি, জনগণকে সম্মান করি। রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণের ইচ্ছাই আমার কাছে মুখ্য। কুষ্টিয়া-৩ আসনের জনগণ যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমি সেই সিদ্ধান্তই মেনে নেব।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারকে কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে মনোনয়ন দেয়ার পর দলীয় নেতা কর্মীরা যখন রাষ্ট্র কাঠামো ৩১ দফা নিয়ে জনগনের দ্বার প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে ঠিক তখনই জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের কিছু সংখ্যক সমর্থকরা প্রতিবাদে মশাল মিছিল, মানববন্ধন করার পাশাপাশি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন নিজেই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করেছেন। এতে করে নতুন করে কুষ্টিয়া সদর আসনে বিএনপির নেতা কর্মীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। তবে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন দল থেকে মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন কি না এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, এলাকার মানুষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি কাজ করবেন।
এদিকে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সকল অঙ্গ সংগঠন প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রত্যান্ত এলাকায় জাকির হেসেন সরকারে ছবিসহ ধানের শীষের পোষ্টার, ফেষ্টুন ও বিল বোর্ড লাগিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা অব্যাহত রেখেছেন। অপর দিকে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন তিনিও গ্রামে গ্রামে সভা সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। যে কারনেই কুষ্টিয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কোন দলীয় নির্দেশই দলীয় নেতা কর্মীরা মানছেন না।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যারা দাবি করছেন তারাও দলের ত্যাগী নেতা। আমি এটাকে খুব একটা নেগেটিভ হিসেবে দেখছি না। বিএনপি একটি অনেক বড় দল। এখানে একাধিক যোগ্য নেতা রয়েছেন। তাই ক্ষোভ অভিমান থাকতেই পারে। এগুলো নিরসনে দলের পক্ষ থেকে আমরা কাজ করছি। সবার সঙ্গে কথা বলছি। আশা করছি রাগ-ক্ষোভ যাই থাকুক না কেন, দিন শেষে নেতাকর্মীরা সবাই একজোট হয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন।
