জনগণের ভোগান্তি কমাতে রেল লাইন স্থানান্তর করা হবে: প্রকৌশলী জাকির সরকার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

জনগণের ভোগান্তি কমাতে রেল লাইন স্থানান্তর করা হবে: প্রকৌশলী জাকির সরকার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নিজ হাতে বৃক্ষরোপণ ও আবর্জনা পরিষ্কার করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। আগামী ত্রয়োদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের ৭৭ নং আসন, কুষ্টিয়া-৩ সদরে মনোনয়ন ফরম উত্তলন করেছেন। শত ব্যস্ততার মধ্যেও সকালে প্রতিনিয়ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে নিজ হাতে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে থাকেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে মহাসড়কে দেখা যায় ক্লিন কুষ্টিয়া” গ্রীন কুষ্টিয়া টি সার্ট পরিহিত অবস্থায় সাদা মাটা ভাবে স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে রাস্তার ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করছেন। এছাড়া বৃক্ষ রোপন করতেও দেখা যায় তাকে। এর আগে গত বছরে ক্লিন কুষ্টিয়া” গ্রীন কুষ্টিয়া নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চালু করেন। এই সংগঠনের উপদেষ্টা প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। সংগঠনটির যাত্রা শুরু হলে, দেখা যায়, কর্মসূচির শুরুতে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার সড়কের পাশে জমে থাকা আবর্জনা নিজ হাতে পরিষ্কার করেন এবং শহরের কয়েক কিলোমিটার জুরে আইল্যান্ডের মাঝে গাছের চারা রোপণ করেন।

এবিষয়ে স্থানীয়রা জানান, শহরের আইল্যান্ডের মাঝে গাছ লাগাতে দেখে আমরা উপহাস করতাম। এসব গাছ হবে না, অবহেলা, অযত্নে মরে যাবে, এমনকি শহরের গরু গুলো গাছ গুলো নষ্ট করে দিবে। কিন্তু যখন দেখি গাছ লাগানোর পরে প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার ও তার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিচর্যা করা হচ্ছে, তখনই গাছ গুলো বড় গয়ে সবুজায়ন নগরীতে পরিনত হয়েছে। এই শহরের দালান কোঠার মাঝে গাছ থাকায় সুবাতাস পাই আমরা। তবে শুরুতে নানান সমালোচনার সমূখীন হলেও বর্তমানে সু-নামে ভাসছেন তিনি।

চৌড়হাস এলাকার বাসিন্দা শাহবুদ্দিন মিন্টু বলেন, একজন রাজনীতি ব্যক্তি হয়েও ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত গাছ গুলোর যত্ন নেন। শহরে রাস্তার পাশে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করেন। তার আত্মসম্মানের কথা ভূলে গিয়ে কুষ্টিয়াবাসীর কথা ভেবে এসব করছেন। মানুষের সুবিধা অসুবিধায় ছুটে যান তিনি। এ ধরনের মানুষ জনপ্রতিনিধি হলে জনগণের কল্যান হবে। তিনি আরো বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির এমন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এমপি প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সবুজায়ন সুস্থ জীবনের জন্য অপরিহার্য। কুষ্টিয়াকে একটি বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সামাজিক সচেতনতা জরুরি।” তিনি ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এমন সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া তরুণ সমাজকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, একটি সুন্দর, বাসযোগ্য ও স্বাস্থ্যকর শহর গড়তে হলে আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো শহর পরিষ্কার রাখা এবং বেশি বেশি গাছ লাগানো। পরিষ্কার শহর শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এটি আমাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে বৃক্ষরোপণ আমাদের পরিবেশ রক্ষা করে, তাপমাত্রা কমায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলে।

আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রথমে কি করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, কুষ্টিয়াকে আধুনিকায়ন করতে একটা পরিকল্পনা রয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে শহরের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করব, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি স্কুল, রাস্তার পাশে ও খালি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব এবং তরুণ সমাজকে এতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করব। আপনারা দেখেছেন, শহরের মধ্যে দিয়ে রেল লাইন থাকায় যানযটের সৃষ্টি হয়, জনগণের ভোগান্তি কমাতে রেল লাইন স্থানান্তর করা হবে।

এছাড়া রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে আমাদের নেতা দেশ নায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপি যে ৩১ দফা ঘোষণা করেছে, সেই দফাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আমার নিজের জন্য কিছু নিতে আসি নাই, যতটুকু পারবো কুষ্টিয়ার উন্নয়ন করে জনগণের পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ। এদিকে মঙ্গলবার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি শেষে শহরের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি গাছের চারা রোপণ করা হয়।