বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা, হত্যা, লুটপাট, চাঁদাবাজিসহ সকল অপকর্ম করেছেন সমানতালে। এই দীর্ঘ সময়ে শিপন বিশ্বাসের ষড়যন্ত্রে অসংখ্য বিএনপির নেতাকর্মী এলাকায় বা বাড়িতে থাকতে পারেননি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে আঁতাত করে এলাকায় ক্ষমতার একক আধিপত্য বিস্তার করেন। কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিনের সাথে দহরম মহরম সম্পর্ক আছে এমন প্রচারণা চালিয়ে অসংখ্য অপকর্ম করেছেন শিপন বিশ্বাস।
কামারুল আরেফিনের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসাথে উঠানো ছবি প্রচার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। ২০২৪ সালের ১৩ ই মে কুষ্টিয়া ইবি থানার হাতিয়ায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জল বিশ্বাসের পিতা আনিচুর রহমান ওরফে বকুল বিশ্বাসকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার ঘটনায় শিপন বিশ্বাসকে প্রধান আসামী করে ইবি থানায় হত্যা মামলায় ১ নং আসামী করা হলেও ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের নেতাদের সহযোগিতায় বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন। ছাত্রদলের নেতার পিতাকে হত্যার পর শিপন বিশ্বাস আওয়ামীলীগের নেতাদের ছাত্রছায়ায় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে নিজের আখের গুছিয়েছেন।
বকুল বিশ্বাসকে হত্যার পর শিপন বিশ্বাসের ফাঁসির দাবিতে এলাকার নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে ঝাঁড়ু মিছিল করেন। সাবেক ছাত্রদল নেতা উজ্জল বিশ্বাস ও তার পরিবারের অভিযোগ, আনিচুর রহমান বকুল বিশ্বাসকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যার পর আওয়ামীলীগ নেতাদের সহযোগিতায় মামলা থেকে বাঁচতে চেষ্টা করেন। গত ৫ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খোলস পাল্টে কয়েকজন বিএনপি নেতার সহযোগিতায় রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। নিজেকে বিএনপির সমর্থক প্রমাণ করতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচীতে তাকে সামনের কাতারে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে শিপন বিশ্বাসের সাথে তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
