চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককে প্রাণনাশের হুমকি, কুষ্টিয়ায় চাঞ্চল্য - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককে প্রাণনাশের হুমকি, কুষ্টিয়ায় চাঞ্চল্য 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১৪, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান এবং কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে উদ্দেশ্য করে হাতে লেখা এক চিঠিতে চরম হুঁশিয়ারি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। নিজেকে একজন ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে প্রেরিত এই চিঠিতে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রত্যাহার না করলে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য প্রশাসন ও স্থানীয় চিকিৎসকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

চিঠিতে দেখা যায়, চিঠির শুরুতে ডা. জাহিদ রায়হানকে (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। চিঠিতে প্রেরক ডা. জাহিদকে ‘বেশি বাড়াবাড়ি’ না করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “বেশি লম্বা হয়োনা, ঝড়ে ভেঙে যাবে”। এমনকি তাকে নিজের অফিসের খবর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গত ২৫শ এপ্রিল কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে যে ৫ জন ডাক্তারের বিরুদ্ধে ‘শোকজ’ বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, উক্ত চিকিৎসকদের কোনো ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং তার পরিবার কেউই বেঁচে থাকতে পারবে না। এছাড়া চিঠিতে-কর্মকর্তাদের ‘অসভ্য ও বেয়াদব’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনো হয়রানি না করতে সাবধান করা হয়েছে।

চিঠির শেষে প্রেরক নিজেকে ৮৬ বছর বয়সী একজন ‘ মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে চিঠিতে প্রেরকের নাম অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা অন্য কোনো প্রশাসনিক কারণে সম্প্রতি পাঁচজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের জের ধরেই ক্ষুব্ধ কোনো পক্ষ এই উড়ো চিঠি বা হুমকির পথ বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে সরাসরি চিঠির মাধ্যমে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়ায় বিষয়টি এখন কেবল দাপ্তরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। চিঠিতে যে ধরণের ভাষা এবং যুদ্ধের রেফারেন্স টানা হয়েছে, তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। তবে এ ব্যাপারে ডা. জাহিদ রায়হান’র বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ চিকিৎসক সমাজ।