কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতি বৃষ্টি খাতুনের (২৫) মৃত্যুর অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে বৃষ্টির বাবা সাইফুল শেখ বাদী হয়ে নোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বদর উদ্দিনের নামে মামলা করা হয়। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে এ মামলায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারিনি পুলিশ। গতকাল শনিবার (২৪ আগস্ট) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মো. আকিবুল ইসলাম। তিনি জানান, নিহত বৃষ্টির বাবা বাদী হয়ে ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। আসামি গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের অবহেলায় মাত্র চার দিনের ব্যবধানে কুমারখালী পৌরসভার তেবাড়িয়ার বিশ্বাস মোড় এলাকার নোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দুইজন প্রসূতি নারীর মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন-উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের যদুবয়রা গ্রামের রিপন শেখের স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন (২৫)।
তাকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নোভা ক্লিনিকে অস্ত্রপাচার করা হয়। অস্ত্রপাচারে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ওইদিন রাত ৩ টার দিকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গত শুক্রবার সকাল ৮ টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বিকেলে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। আর রাতে বাবা সাইফুল শেখ চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করেন। অপরজন নন্দলালপুর ইউনিয়নের বেলঘোড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে মর্জিনা খাতুন (২৭)।
তিনি গত ১৮ আগষ্ট রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। ১৯ আগষ্ট ময়নাতদন্ত ছাড়াই সামাজিক কবরস্থানে মরদেহটি দাফন করা হয়। এ ঘটনায় আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আরো জানা যায়, অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে গত শুক্রবার দুপুরে বৃষ্টির লাশ নিয়ে নোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘেরাও করে নিহতের স্বজন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র – জনতা।
পরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা ও নানান অসংগতি পাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লিনিকটিকে সিলগালা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত। এসময় কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. মো. আকুল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। বৃষ্টির বাবা সাইফুল শেখ বলেন, ভুয়া ডাক্তার দিয়ে ক্লিনিক মালিক আমার মেয়েকে সিজার করিয়েছে।
সিজারের সময় একাধিক নাড়ি কেটে মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠ বিচারের আশায় থানায় মামলা করেছি। নিহত মর্জিনা খাতুনের স্বামী জহুরুল ইসলাম বলেন, নোভা ক্লিনিকে সিজারের সময় আমার স্ত্রীর নাড়ি কেটে যায়। সেজন্য অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। বুঝতে না পেরে সেদিন ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়েছে। তবে এখন আদালতে মামলা করব আমি। নোভা ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বদর উদ্দিনের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে নাম প্রকাশ না করা শর্তে ক্লিনিকের একজন কর্মচারী বলেন, দুটো রোগীরই নাড়ি কেটে যায়। দুজনই রাজশাহীতে মারা যান। কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. মো. আকুল উদ্দিন জানান, মাত্র চারদিনের ব্যবধানে নোভা ক্লিনিকে দুইজন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানানো যাবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত জানান, অল্প সময়ে দুজনের মৃত্যুর অভিযোগ এবং নানান অসংগতি থাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লিনিকটিকে সিলগালা করা হয়েছে।
