কুষ্টিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় গাছ কর্তনের অভিযোগ
কুষ্টিয়ার অধীন বরিয়া টাকিমারা এলাকায় ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক এর জমিতে চাষ করতে হলে স্থানীয় ও প্রভাবশালীদের দিতে হবে চাঁদা এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগ ও মামলা দায়ের হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় গাছ কর্তনের অভিযোগ
উক্ত ক্রয়কৃত সম্পত্তির মধ্যে সম্পত্তি দাবী করে গত ২৩ আগষ্ট বিকালের দিকে ১৪টি গাছ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় কুষ্টিয়া বরিয়া টাকিমারা মৌজায় আর, এস ২৪৭১ নং খারিজ খতিয়ানে নালিশী আর,এস ১৮৩৯ দাগে .১৪৬৩ একর, আর,এস ১৮৪০ দাগে .৩২২৫ একর ও আর,এস ১৮৪৭ দাগে .১৯১৩ একর একুনে .৬৬ একর সহ অন্যান্য বেনালিশী মোট ২৬টি দাগে মোট ১.৮৪ একর সম্পত্তি ভুক্তভোগীর নামে সরকার সেরেস্তায় প্রচলিত থাকে।
উল্লেখিত দাগ খতিয়ানের জমাজমি আর,এস ১৫৯৬ নং হোল্ডিং মাধ্যমে সরকার সেরেস্তায় নিয়মিত খাজনা প্রদান ও ভোগ দখল করিতেছেন এবং ঐ এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় ২০ বিঘার উপরে উক্ত সম্পত্তিতে ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক মৎস্য চাষ, গরুর খামার সহ কৃষিজাত পন্য উৎপাদন এবং বিভিন্ন পেশার শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে ব্যবসা বানিজ্য পরিচালনা করছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ বরিয়া মৃত আহম্মদ শেখের ছেলে এতিয়ার রহমান, ভাদালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে আজিম উদ্দিন ও হামিদুল ইসলাম নামে নালিশী সম্পত্তিতে কোনরুপ স্বত্ব স্বার্থ বা ভোগ দখল না থাকা স্বত্বেও অন্যায়ভাবে জমি বেদখল করছে এবং দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দিলে কোন শ্রমিককে কাজ করতে দিবে না মর্মে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে।
এ বিষয়ে উক্ত জমি নিয়ে উদিবাড়ী মৃত ছামসুদ্দিনের ছেলে ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারা মতে বিবাদীদের নামে একটি মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং-৬৪৭, তারিখ- ২৯/৭/২০২৩। বর্তমানে মামলাটি চলমান আছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক বলেন উপরোক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মাদকসহ নানা অপকর্মের মুল হোতা আজিম-এতিয়ার জড়িত। বরিয়া এলাকায় এই বাহিনীর ক্যাডাররা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে তিনি দাবী করেন। তিনি আরও বলেন গত ২০২৩ সালের ৮ আগষ্টে ঐ এলাকার সাহাবুল মন্ডলের নিকট চাঁদা চাই এই বাহিনীর ক্যাডাররা। সাহাবুল চাঁদার টাকা দিতে না পারায় তার চাষের জমি জিম্মি করে রাখে এবং তাকে বেধড়ক মারপিট করে রক্তাক্ত জখমও করে।
এ বিষয়ে সাহাবুল বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন যার নম্বর-১৮/২৩। উক্ত সম্পত্তিতে দেখাশোনার জন্য আবুল কালাম নামে একজন ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেন ঐ ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল আবুল কালামকে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন এ বিষয়ে তাদের নামে আরও একটি জিডি দায়ের করেন। যার নম্বর- ৯৭৭। গত ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই ভুক্তভোগীর জাহান ফিশারিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। পরবর্তীতে দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দিলে মৎস্য খামার জিম্মিসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ করে রাখেন। পরে ভুক্তভোগী পুনরায় আবারও কুষ্টিয়া মডেল থানায় জিডি দায়ের করেন। যার নম্বর- ২৪০৩। এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার স্থানীয় কিছু পত্রিকা কুষ্টিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় চাষ করতে পারছেন জমির মালিক শিরোনামে গত ১৪ আগষ্টে সংবাদ ছাপা হয়। এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী ভয়ে ভীত হয়ে আইনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে জানানোর পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায় ১০ বিঘা চাষের জমিসহ পুকুর ও খামার অবরুদ্ধ ও জিম্মি করে রেখেছে। ফলে কোন ফসল চাষ বা কোন শ্রমিক কাজ করতে গেলে তাদেরকে বেধরক মারপিট করে পাঠিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেন। এ বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
অভিযুক্ত আজিম ও হামিদুল ঘটনার বিষয়টি নিয়ে মুঠো ফোনে ফোন দিলে তারা রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বিবাদী এতিয়ার রহমান সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন আব্দুল মালেক কাছ থেকে বহুদিন পূর্বে দুই কাটা মত জমি মৌখিকভাবে ৩লক্ষ টাকার উপরে বন্ধক নিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আব্দুল মালেক তার জমি ফেরত নেন, কিন্তু পরবর্তীতে উক্ত টাকা না দেওয়ায় তারা কাউকে জমি চাষ করতে দিচ্ছে না বলে জানায়। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমানের বলেন বিষয়টি তদন্ত চলছে ।
