বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার চরমপন্থী নেতা কালু বাহিনীর অন্যতম সদস্য এবং পদ্মা নদীতে নৌ পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল আলীম ওরফে চিকন আলীম (৪৪) কে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গতকাল শনিবার (২ মে) বিকেলে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আলীম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দয়ারামপুর ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। র্যাব সূত্র জানায়, গত ২২ এপ্রিল রাতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ঘাট এলাকায় গড়াই নদীর মোহনা সংলগ্ন পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৮ থেকে ৯ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত স্পিডবোটযোগে এসে নৌ পুলিশের টহলদলকে লক্ষ্য করে শর্টগান দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে নৌ পুলিশের ফাঁড়ি ইনচার্জসহ চার পুলিশ সদস্য এবং পুলিশের নৌকার মাঝি আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করে। এ ঘটনায় লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনসহ দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
র্যাব জানায়, মামলার তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারির একপর্যায়ে তারা জানতে পারে প্রধান আসামি চিকন আলীম গ্রেফতার এড়াতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে অবস্থান পরিবর্তন করছে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১২ সিপিসি-১ এবং র্যাব-৩ সিপিসি-২ এর একটি যৌথ দল শুক্রবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর কাফরুল থানার মিরপুর-১৪ পুলিশ কোয়ার্টার সংলগ্ন ফুটওভারব্রিজের নিচে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আব্দুল আলীম চরমপন্থী নেতা কালুর পক্ষে কুমারখালী, খোকসা এবং পদ্মা নদী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে সক্রিয় ছিল।
স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নদীপথ নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন কেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তারে সে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীকেন্দ্রিক বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। নৌ পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ওই চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে আসে। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
