বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর তিনটায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালেক্টরেট চত্বরে অনুষ্ঠিত সেমিনার সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয় মাননীয় উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পিপিএম (বার), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার (অঃদা) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর উপপরিচালক মোহাম্মদ হেলালউজজামান, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার, খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হাই সিদ্দিকী এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ইমামগণ এবং পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তর প্রধান, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ , ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয় মাননীয় উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, আজ যারা ৩৫ বছর বা তার কম বয়সী, তাদের একটি বড় অংশ জীবনে এখনো একবারও ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। দীর্ঘদিনের সেই অনিশ্চয়তা ও অচলাবস্থার পরিবর্তনের সূচনা ঘটে ২০২৪ সালের ৫ জুলাই। এর পরপরই গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের সংস্কার প্রত্যাশাকে সামনে রেখে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করে। লক্ষ্য একটাই রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা এবং ভবিষ্যতে যেন আর কখনো দেশ এমন অচল পরিস্থিতির মুখে না পড়ে।
এই সংস্কারকে জনগণের সম্মতির মাধ্যমে বৈধ ও কার্যকর করতে আয়োজন করা হয়েছে গণভোট। এটি শুধু একটি ভোট নয়; এটি আমাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি নির্ধারণের সুযোগ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যেখানে আপনাদের ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে কারা আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। আরেকটি হলো গণভোট। যার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে দেশ কীভাবে চলবে। এই গণভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদেরকে ‘হ্যাঁ’ সূচকে সিল দিয়ে সংস্কারের পক্ষে নিতে হবে এবং আপনারা সবাই ভোট কেন্দ্রে যাবেন, নিজের ভোট নিজে দেবেন এবং আশপাশের মানুষকেও গণভোট ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানাবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার আরও বলেন, ২০২৪ সালে যে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, ভবিষ্যতে যাতে তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়; তার জন্য যে সংস্কার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, নির্বাচনে সবাই যাতে ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে অংশ নিতে পারেন তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সংস্কারের যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, তার পক্ষে যেন দেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন থাকে, সরকার সেই মেসেজটিই দিতে চাচ্ছে।
ভোটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আলী ইমাম মজুমদার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি ভোট গ্রহণে বিঘ্ন ঘটাতে চায় কিংবা কোথাও কোনো চিহ্নিত অপরাধী থাকে, তবে পুলিশ তাকে অবশ্যই আটক করবে। নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। চাল আমদানির বিষয়ে খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি করা হচ্ছে। ৬ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন করা হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে আমরা এই পর্যন্ত ২ লাখ টন আনার জন্য সম্মতিপত্র দিয়েছি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। এখনো কেউ এলসি করেছে বলে আমি জানি না। আর এতে প্রভাব যেটা হয়েছে এর প্রভাবটা অনুকূলে হবে। উৎপাদনকারী যারা আছে তাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য আমরা ব্যবস্থা করেছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি সরকারি স্টক আছে। আমাদের স্টক ২১ লাখ টনের ওপরে আছে। আশা করছি কোনো ধরনের সংকট হবে না। ভালোভাবে খাদ্য পরিচালনার ব্যবস্থা করা যাবে। চালের দাম বাড়ার বিষয় তিনি বলেন, আমাদের মিলারদের সঙ্গে এই নিয়েই কথা হয়েছে। তারা বলেছে দুই টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। আগামী দু-চার দিনের ভেতরে এটা নেমে যাবে। আর বাজারে যদি ডিমান্ড সাপ্লাই ঠিক থাকে। সাপ্লাই লাইন যেন সমৃদ্ধ হয় তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। দরিদ্র ভোক্তা পর্যায়ে সরকারি খাদ্য কর্মসূচি আওতায় কয়েক দিনের মধ্যেই প্রতিটি উপজেলায় প্রতিদিন ওএমএস চালু হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আমার প্রধান দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া। এমন একটি পরিবেশ, যেখানে জেলার প্রতিটি নাগরিক ভয়মুক্ত, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
