গণজাগরণের শিল্প আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে যন্ত্রসংগীত উৎসব যন্ত্রের তালে তালে মুখরিত কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

গণজাগরণের শিল্প আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে যন্ত্রসংগীত উৎসব যন্ত্রের তালে তালে মুখরিত কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ২১, ২০২৩

নীরব পিনপতনের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে চলছে ঢোল-তবলা, হারমোনিয়াম, খমক, দোতরাসহ সামগ্রীক বাদ্যের ঝনঝনানী। কোন গানের সুর নয় এ যেন বাদ্যের তালে তালে সুরের ধারা বয়ে আনে নীরবে। যন্ত্রের তালে তালে মুখরিত বিমোহিত দর্শকশ্রোতারাও।

গণজাগরণের শিল্প আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে যন্ত্রসংগীত উৎসব
যন্ত্রের তালে তালে মুখরিত কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা

গণজাগরণের শিল্প আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে যন্ত্রসংগীত উৎসব
যন্ত্রের তালে তালে মুখরিত কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা

অডিটোরিয়াম ভর্তি দর্শক শ্রোতা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে রাগ সংগীতের মিশ্রসুরে শ্রবণ করেন নানা রকমের যন্ত্র সংগীতের এ ঝংকার। শিল্প সংস্কৃতিঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় শিল্প নিয়ে পৌঁছে যাব আমরা উন্নতির শিখরে’ প্রতিপাদ্যে গণজাগরণের শিল্প আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলায় এ যন্ত্রসংগীত উৎসব পালিত হয়। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এ যন্ত্রসংগীত উৎসব চলে গভীর রাত পর্যন্ত। ভার্চুয়ালি এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এসময় তিনি বলেন, কালের গর্ভে অনেক যন্ত্র হারিয়ে গেছে। সেগুলো আমরা সংরক্ষণ করতে চাই।

এজন্য আমরা যন্ত্রসংগীত উৎসব আয়োজন করেছি। তিনি বলেন, আমাদের শক্তি, আমাদের বল, আমাদের ভাষা, আমাদের হাজার হাজার মনীষী। আমাদের দেশ সৃজনশীল ১৭ কোটি মানুষের মাঝে আমরা সংস্কৃতির পরিবার গড়ে তুলতে চাই। তিনি বলেন, সারা দেশের দেড় হাজার যন্ত্রশিল্পী এ অনুষ্ঠানে যুক্ত আছেন, তাদের সাধুবাদ জানাই। কুষ্টিয়ার জেলা কালচারাল অফিসার সুজন রহমানের তত্ত্বাবধানে ও রোকসানা পারভীন লাকীর সঞ্চালনায় যন্ত্রসংগীত উৎসবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিল্পকলা একােডমীর সাধারন সম্পাদক মো: আমিরুল ইসলামসহ নাট্য ব্যক্তিত্ব, কুষ্টিয়ার গুণীশিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, সকল ধরণের যন্ত্রশিল্পী সহ নানা পেশাজীবী মানুষ ও গুণীজন উপস্থিত ছিলেন।

জেলা শিল্পকলা একােডমীর সাধারন সম্পাদক মো: আমিরুল ইসলাম বলেন, মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতিকে সঙ্গী করতে হবে। একসময় দেশে অনেক বাদ্যযন্ত্র ছিল। তার অধিকাংশই এখন বিলুপ্তির পথে। এরমধ্যে যেগুলো এখনো টিকে রয়েছে সেগুলোকে সংরক্ষণ করতে কাজ করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী। এছাড়াও শিল্পীর মর্যাদা থেকে বঞ্চিত থাকছেন যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পীরা। যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে এবং এসব টিকিয়ে রেখে সংস্কৃতিকে সঙ্গী করেই উন্নতির পথে হাঁটতে হবে। কুষ্টিয়ার জেলা কালচারাল অফিসার সুজন রহমান জানান, সঙ্গীতের অপরিহার্য অনুষঙ্গ যন্ত্রশিল্পী। যন্ত্রশিল্পী ছাড়া সঙ্গীত পূর্ণাঙ্গ নয়। কণ্ঠশিল্পী কখনো সঙ্গীতকে একা চালিয়ে নিতে পারেনা, কিন্তু যন্ত্রশিল্পী তা অনায়াসেই পারে। শিল্প দিয়ে আমরা মানুষের কাছে পৌঁছাবো। ভবিষ্যতে যন্ত্রশিল্পীদের েিনয় মহাসমাবেশ করতে চাই বলেও জানান তিনি।

বাদ্যযন্ত্রে অংশ নেওয়া শিল্পীরা হলো: ঢোলে প্রদীপ অধিকারী, তবলয়ে ইমতিয়াজ আহসান দিপু ও শামীম হাসান. বাঁশিতে অমিতাভ বিশ্বাস, ঢোলকে মীর আতিকে খোলে আকাশ চক্রবর্তী, পারকেশন জাহিদ হাসান, হাওয়ায়এনগিটার আশিক রাজীব, বেজ গিটার ইরফান স্বপন, লিট গিটার রোহান, কি-বোর্ডে জহির ও জুয়েল আহমেদ, মন্দিরায় শহীদুল ইসলাম, খমকে নজরুল ইসলাম, দোতরায় হবিবর বিশু, হারমোনয়িামে রতন শাহ ও মাউথঅরগ্যানে সুজন। এছাড়াও খোকসা থেকে আগত ব্যান্ড পার্টি ইয়ার আলী ও তার দল।