খোকসায় সরকারি লাইসেন্স পেয়েও জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষক মনোয়ার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

খোকসায় সরকারি লাইসেন্স পেয়েও জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষক মনোয়ার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১৫, ২০২৬

মোশারফ হোসেন ॥ কুষ্টিয়া খোকসায় ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা অনুযায়ী সেচ পাম্প বা নলকূপ স্থাপনের জন্য বিএডিসি থেকে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। তবে তা অমান্য করে বানিজ্যিকভাবে বৈদ্যতিক মিটার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে কৃষি জমিতে সেচ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন কুষ্টিয়া খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মো.নাসির শেখ (৫৫)।

এদিকে বিএডিসি থেকে লাইসেন্স পাপ্ত হয়েও পর্যাপ্ত সেচ দিতে না পেরে প্রশাসন ও বিদ্যুৎ অফিস বরাবর অভিযোগ তুলেও কোনো প্রকার সুফল পাচ্ছেন না মনোয়ার হোসেনে। জানা যায়, অগভীর নলকূপের মাধ্যমে বানিজ্যিকভাবে কৃষি জমিতে সেচের জন্য ২০১৭ সালে বিএডিসি থেকে লাইসেন্স পান। নিশ্চিন্তবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেন। লাইসেন্স অনুযায়ী তিনি তার সেচ পাম্পের চার পাশে অন্তত ২৫০ ফুট এলাকা জুড়ে সেচ কাজ পরিচালনা করবেন।

এই এলাকার মধ্যে অন্য কেও যদি সেচ প্রদান করে থাকেন তা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অবৈধ। তবে এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবসিক বৈদ্যতিক মিটার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সাব মারসিবল পাম্পের মাধ্যমে অবৈধভাবে সেচ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন প্রতিবেশী কৃষক মো.নাসির শেখ। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের বারবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী কৃষক মনোয়ার হোসেন।

বিএডিসির সেচ লাইসেন্স প্রাপ্ত কৃষক মনোয়ার হোসেন বলেন,  নিশ্চন্তবাড়িয়া গ্রামের  সেচ পাম্প এলাকায় বিভিন্ন কৃষকের অন্তত ৫০ বিঘা কৃষি জমি রয়েছে। সেখানে কৃষকেরা সারাবছর পেঁয়াজ, ধান,পাটসহ বিভিন্ন ফসলাদী আবাদ করে থাকেন। ২০১৭ সাল থেকে বিএডিসি লাইসেন্স নিয়ে কৃষক  নির্ধারিত দামে এসব জমিতে সেচ প্রদান করে আসছেন।

তবে কয়েক বছর যাবত প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবেশী নাসির হোসেন নিজ বাড়ির আঙিনায় সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার থেকে সংযোগ নিয়ে অবৈধভাবে  এলাকায় সেচ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন নাসির। এভাবে অবৈধ্ভাবে বিএডিসি নির্ধারিত এলাকার মধ্যে সেচ কার্যক্রম চালানোর কারনে কৃষক মনোয়ার হোসেন বছরে অন্তত ৩ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মখীন হচ্ছেন। এদিকে অভিযুক্ত নাসির ও স্বীকার করেছেন সারমার্সিবল এর মাধ্যমে সেচের কাজ চালানোর কথা। অভিযুক্ত নাসির হোসেন বলেন, আমি নিজের জমি সহ অল্প কিছু জমিতে সেচ দিয়ে থাকি।

এটা বৈধ না, অবৈধ জানিনা। খোকসা পল্লী বিদ্যুৎতের কর্মকর্তারা বলছেন, আবাসিক মিটার থেকে বানিজ্যিকভাবে সেচ কার্যক্রম চালানো কোনো নিয়ম নাই। তবে এবিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি খোকসা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সুপার ভাইজার, যদিও তিনি জনবল সংকটের কথাও তুলে ধরলেন অকপটে। খোকসা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোছাঃ তাসমিন জাহান বলেন, এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু আশ্বাস নয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুতই ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন কৃষক মনোয়ার হোসেন এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।