বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বিদেশে পাঠানোর টাকা ফেরত নেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে এক দম্পতি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর, স্বর্ণ ও টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত মিরাজ আলী বিশ্বাস (৩২) বর্তমানে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। গতকাল মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলার জয়েন্তীহাজরা ইউনিয়নের মহিষবাথান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতের স্ত্রী মোছাঃ রোকসানা খাতুন (৩০) খোকসা থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, স্থানীয় হজরত আলী (২২) বিদেশে যেতে চাওয়ায় তার স্বামী পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বিদেশে নিয়ম ভঙ্গ ও মাদকাসক্তির কারণে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফিরে হযরত আলী বিদেশে যাওয়ার টাকার পূর্ণ ফেরত দাবি করলে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। রোকসানার অভিযোগ, গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে মোতালেব প্রামানিকের (৬৫) নির্দেশে আলামিন হোসেন (২৫), হজরত আলী (২২) ও রিপন প্রামানিক (২৬) দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা তার স্বামীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। মিরাজের মাথায় গভীর আঘাত লেগে ১১টি সেলাই দিতে হয়েছে। রোকসানা দাবি করেন, তিনি এক মাস আগে সিজার অপারেশন করিয়েছেন।
হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গলায় থাকা ১০ আনা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এ ছাড়া বিদেশে যাওয়ার জন্য সঞ্চিত ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা লকার ভেঙে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে তার বড় জাকেও পিটিয়ে গলার ৮ আনা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিবাদীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে আইনের আশ্রয় নিলে ‘মেরে ফেলা হবে’ এবং বাড়িতে বসবাস করতে দেওয়া হবে না বিবাদীদের দাবি। ঘটনার সত্যতা জানতে সংবাদকর্মীরা হজরত আলীদের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি।
তবে তার মা বর্তমানে খোকসা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, “আমার ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া হয়েছে। সেখানে কাজ না পেয়ে সে ফেরত আসে। আমরা টাকা চাইতে গেলে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। মারামারি বাইরে হয়েছে, ঘরের ভেতরে নয়। টাকা বা স্বর্ণ লুটপাটের ঘটনা সত্য নয়।এ বিষয়ে খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মইনুল ইসলাম বলেন, এক পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঘটনাস্থল এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
