খোকসা প্রতিনিধি ॥ এক বৃদ্ধের কাছে প্রথমে ভোট চান বিএনপির কর্মীরা। এরপর জামায়াতের কর্মীরাও ভোট চাইতে ওই বৃদ্ধের বাড়িতে গেলে বাগবিতণ্ডা হয়। এনিয়ে স্থানীয় বাজারে শালিসী বৈঠক বসান জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মী – সমর্থকরা। শালিসে কথা তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তাঁরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৭জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের মাসিলিয়া বাজারে গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপির আহতরা হলেন – জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদ আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন (৪৫), সমর্থক ও ফুলবাড়িয়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে খাইরুল হাসান রিন্টু ও আব্দুর রহমানের ছেলে তুহিন হোসেন (৩২)।
তাঁরা খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও হাবিবুর রহমান নামের আরেক কর্মী নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। জামায়াতের আহতরা হলেন – জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এস এম আবু দাউদ (৪০), ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাল (২২) ও উপজেলা ওলামা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইদুল ইসলাম (৩৩)। তাঁরা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ, এলাকাবাসী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে বৃদ্ধ আব্দুর রহমান (৮০) নামের এক বৃদ্ধের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন বিএনপির কর্মীরা। তিনি বিএনপিতে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এরপর ওইদিনই রহমানের কাছে জামায়াত কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে বাগবিতণ্ডা হয়। এনিয়ে আজ বুধবার সকালে মাসিলিয়া বাজারের বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের কার্যালয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা শালিসী বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তাঁরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এতে অন্তত উভয়পক্ষের ৭জন আহত হয়ে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এবিষয়ে আহত জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘ ওই মুরব্বী ধানের শীষের ভোট দিতে চেয়েছিল। আর জামায়াতের কর্মীরাও তাঁর বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে বাগবিতণ্ডা করেন। এ নিয়ে আজ সকালে শালিসী বৈঠক চলছিল। বৈঠকে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। তখন জামায়াতের লোকজন পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে আমিসহ বিএনপির ৪জন আহত হয়েছে।’ তাঁর ভাষ্য, খোকসা উপজেলা জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এস এম আবু দাউদ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘ বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের নারীদের ভোটের প্রচারণায় বাঁধা প্রদান করেছে। বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ নিয়ে আজ শালিস চলছিল। সেখানে বিএনপির কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন। ‘ তাঁর ভাষ্য, বিএনপির কর্মীরা নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন।
সেজন্য ভয়ে তাঁরা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে খোকসা উপজেলা জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। জামায়াত নাকি বিএনপি সংঘর্ষ সৃষ্টি করেছে তা জানা যায়নি। এ দিকে খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত কর্মীদের খোঁজখবর নিতে ছুটে গিয়েছিলেন কুষ্টিয়া ৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনকে বাঞ্চাল করতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে এ হামলা চালিয়েছে। অবশ্যয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কুষ্টিয়া ৪ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘ বিএনপির নেতাকর্মীরা ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে আমাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। নারীদের প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছে। আজ আবার হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করেছে। অবশ্যয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি খোকসা থানার পুলিশ পরিদর্শক ( তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেন। তবে তিনি বলেন, ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় দলের কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
