সবুজ আলী, খোকসা ॥ ঈদুল ফিতরের আগে ইউনিয়ন পরিষদ অংশের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছেন উপজেলার গ্রাম পুলিশরা। গতকাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে খোকসা উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত গ্রাম পুলিশ সদস্যরা থানায় সাপ্তাহিক হাজিরা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে উপজেলা পরিষদে যান। তবে ইউএনও বাইরে থাকায় তারা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।
এ সময় উপজেলা পরিষদ ভবনে উপস্থিত কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোঃ আফজাল হোসেনের সঙ্গে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দেখা করেন এবং তাদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সমস্যা তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য তাদের তাঁর বরাবর লিখিত আবেদন দেওয়ার পরামর্শ দেন। উপজেলা গ্রাম পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অপূর্ব বিশ্বাস জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বর্তমানে প্রায় ৯৬ জন গ্রাম পুলিশ কর্মরত রয়েছেন। ২০২৫ সালের মে মাসের পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ অংশের মূল বেতন বকেয়া রয়েছে। এছাড়া গত পাঁচ বছরের যাতায়াত ভাতা ও শ্রান্তি-বিনোদন ভাতাও পরিশোধ করা হয়নি। তিনি বলেন, বকেয়া পাওনার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
বর্তমানে পবিত্র রমজান মাস চলছে এবং দুই সপ্তাহ পর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদের আগে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে তারা ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। কিন্তু সাক্ষাৎ না হওয়ায় তারা ফিরে যান। ঈদের আগে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের জোর দাবি জানান গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, গ্রাম পুলিশদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ প্রায় নিয়মিতভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের কারণে সাময়িক কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে ঈদের আগেই তাদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা হবে। সংসদ সদস্য মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, গ্রাম পুলিশদের বেতন-ভাতা নিয়মিত করার বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন মহলে আলোচনা করবেন।
