খোকসায় অপরিকল্পিত মুরগির খামার বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

খোকসায় অপরিকল্পিত মুরগির খামার বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৪

মিলন খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া কুঠিপাড়া গ্রামে জনবসতির মধ্যে অপরিকল্পিত ভাবে মুরগির খামার স্থাপনে বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। অভিযোগ উঠেছে, খামার নির্মাণের নীতিমালা উপেক্ষা নাকরে গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় খামারটি স্থাপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের কাছে বার বার মৌখিক অভিযোগ দিলেও কাজে আসেনি গ্রামবাসীর। স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাত/আট বছর ধরে উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কুঠিপাড়া গ্রামে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হযরত আলী নামের এক প্রভাবশালী জোরপূর্বক অপরিকল্পিত ভাবে মুরগির খামার স্থাপন করেন। বর্তমানে তার দু’টি খামারে প্রায় সাড়ে ১ হাজার মুরগি রয়েছে। অপরিকল্পিত খামারের মুরগির বিষ্ঠার কারণে এলাকায় মারাত্মক ভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বিষ্ঠার দুর্গন্ধে খামারের চারদিকে মানুষের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। ঘরে বাহিরে মাছির উৎপাত মশারি ছাড়া বসবাস অযোগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অথচ নীতিমালা অনুযায়ী, একটি মুরগির খামার স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ও প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং জনগণের ক্ষতি হয় এমন স্থানে খামার স্থাপন করা যাবে না বলে সরকারের নির্দেশ রয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুর শিমুলিয়া কুঠিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, খামারটির আশপাশে মুরগির বিষ্ঠা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য নেই কোন ব্যবস্থা। খামারের চারপাশে বসতবাড়ি। এসব বাড়িতে খামারের তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

অসুস্থ হয়ে পড়ছেন খামার এলাকার বাসিন্দারা। খামারি প্রভাবশালী হওয়ায় মুখ খুলতে ভয় পায় বসতিরা। তার হুমকি ধুমকিতে ভয়ে মুখ খুলতে পারে না নিরহ এলাকাবাসী। গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ হাওয়া খাতুন বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশেই খামার। বিষ্ঠা থেকে সব সময় দুর্গন্ধ ছড়ায়। আশপাশে বসবাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। খামারের দুর্গন্ধে বিভিন্ন রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। কলেজ ছাত্র আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে খামারটি সরানোর জন্য গত কয়ক বছর ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইউপি চেয়ারম্যানের ও ইউ এন ও বরাবর মৌখিক অভিযোগ দিয়ে আসছেন গ্রামবাসী। কিন্তু পাননি কোন সু-ব্যবস্থা। গৃহবধু সেলিনা জানান, খামারের দুর্গন্ধে   ডায়রিয়া ও কলেরার মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত তারা। খাবারের মধ্যে মশা মাছি গরু-ছাগল কেউ মাছি কামড়িয়ে শেষ করে দিচ্ছে। খামারি হযরত বলেন, এলাকাবাসির অভিযোগের কারণে খামারটি নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে যাতে দুর্গন্ধ কম ছড়ায়। তবুও যদি মানুষের বেশি সমস্যা হয় খামার বন্ধ করে গরু ফার্ম করবো। ইউপির চেয়ারম্যান আ. কুদ্দুস বলেন, খামারটির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শাহিনা বেগম জানান,  ঘনবসতি এলাকায় অবস্থিত খামারের বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা না থাকলে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া খামার স্থাপন হলে অভিযোগ পেলে জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০০৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।