খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে এক সাব-ডিলারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খোকসা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মোল্লা এন্টারপ্রাইজ-এ এ অভিযান পরিচালনা করেন খোকসা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ তাসমিন জাহান। জানা যায়, খোকসা উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের কৃষক রাশিদুল ইসলাম (পিতা: ওহিদ মোল্লা) পেঁয়াজ চাষের জন্য ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তিন বস্তা সৌদি ডিএপি সার ক্রয় করেন।
সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা সারের মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও তার কাছ থেকে প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫৮০ টাকা করে আদায় করা হয়। ফলে তিন বস্তা সারের জন্য মোট ৪ হাজার ৭৮০ টাকা নেওয়া হয়, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সার কিনে বাড়ি ফেরার পথে কৃষক রাশিদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা হয় স্থানীয় সাংবাদিক শামিম হোসেনের। কথোপকথনের একপর্যায়ে সার ক্রয়ের মূল্য জানতে চাইলে বিষয়টি তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। রসিদ দেখতে চাইলে কৃষক জানান, দোকান থেকে তাকে কোনো মেমো দেওয়া হয়নি। পরে দোকানে গিয়ে মেমো চাইলে সাদা কাগজে শুধু সারের দাম লিখে দেওয়া হয়।
এতে অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত হলে সাংবাদিক শামিম হোসেন দোকান মালিক আশা’র সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিষয়টি খোকসা উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা : তাসমিন জাহান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দোকান মালিকের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। তবে কৃষক উপস্থিত থাকা এবং উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের মুখে পড়ে দোকানের এক কর্মচারী অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষি বিপণন আইন, ১৯ ড ধারা অনুযায়ী মোল্লা এন্টারপ্রাইজ-কে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ বিষয়ে কৃষক রাশিদুল ইসলাম বলেন, “আমি জানতাম না সরকারি দাম কত। দোকানদার বলেছিল দাম একটু বেশি, কিন্তু সার তো দরকার তাই বাধ্য হয়ে কিনেছি। এত টাকা বেশি নিয়েছে বুঝতে পারিনি। সাংবাদিক ভাইয়ের কারণে আজ ন্যায্য বিচার পেলাম।
