খুলনা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

খুলনা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১৫, ২০২৬

দৌলতপুর প্রতিনিধ ॥ চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগে খুলনায় পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও বিপণন স্বেচ্ছায় বন্ধ রেখেছেন জ্বালানি ব্যবসায়ীরা, ফলে খুলনা বিভাগের বিভাগের ১৫ জেলায় তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গতকাল শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। জ্বালানি ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় খুলনা ট্যাংকলরি ওনার্স ভবনে জ্বালানি ব্যবসা সংশ্লিষ্ট চারটি সংগঠনের নেতাদের সমন্বয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে নেতারা জানান, আগে প্রতিটি ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বৈশ্বিক সংকটের কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর নির্দেশনায় চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে ফিলিং স্টেশন মালিকরা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছেন না। এতে খুলনা বিভাগের ফিলিং স্টেশন মালিকদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারাও। এ বিষয়ে সাগর ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলামের বড় ছেলে শাওন বিশ্বাস জানান, খুলনা বিভাগসহ ১৫ জেলায় প্রতিদিন অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ লাখ লিটার। অথচ খুলনার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৯ লাখ লিটার। তিনি আরও বলেন, ফিলিং স্টেশন মালিক ও এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে তিনটি ডিপো থেকেই অতিরিক্ত দেড় লাখ লিটার করে মোট সাড়ে চার লাখ লিটার তেল সরবরাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিপিসি তা গ্রহণ করেনি।

এর প্রতিবাদেই জ্বালানি ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলাতেও। উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তারাগুনিয়ার মেসার্স সাগর ফিলিং স্টেশন, আল্লারদর্গার মেসার্স রফিক ফিলিং স্টেশন এবং খলিশাকুন্ডির মেসার্স হাফিজ ফিলিং স্টেশন বর্তমানে তেলশূন্য হয়ে পড়েছে। প্রতিটি পাম্পে নোটিশ টানিয়ে জানানো হয়েছে ‘তৈল নাই, প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিতরণ করা হবে’। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও পাঁচটি জ্বালানি এজেন্সি রয়েছে। এর মধ্যে মথুরাপুরে হাসিব, হোসেনাবাদের রিপেল, দৌলতপুর সেন্টার মোড়ে মজনু ও মিরাজ এবং আল্লারদর্গায় কামাল উল্লেখযোগ্য। তবে এসব এজেন্সিগুলো তেল না থাকার অজুহাতে তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু এজেন্সির কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ থাকলেও তারা তা খোলা বাজারে সরবরাহ না করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি লিটার পেট্রোল ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।