খালেদা জিয়া জাতীয়তাবাদী দলের ঐক্যের প্রতীক ছিলেন: প্রকৌশলী জাকির সরকার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

খালেদা জিয়া জাতীয়তাবাদী দলের ঐক্যের প্রতীক ছিলেন: প্রকৌশলী জাকির সরকার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ৭, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কুষ্টিয়া সদরের তিন ইউনিয়নে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া, বিকেলে পাটিকাবাড়ি, সন্ধ্যায় হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পৃথক পৃথক দুটি দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপি সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে ধানের শীষের কান্ডারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ইসমাইল হোসেন মুরাদ, জেলা বিএনপি সদস্য আব্দুল মঈদ বাবুল, শহিদুজ্জামান খোকন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন প্রধাধ, ইবি ছাত্র দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা ছাত্র দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জামিরুল ইসলাম জামির প্রমূখ।

ঝাউদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে হাইস্কুল মাঠে দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. সাদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া। পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নে ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে ফকিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন তুষার বিশ্বাস। উপস্থাপনা করেন পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক। এছাড়া সার্বিক তত্বাবধানে ও উপস্থিত ছিলেন পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সাবেক যুবদল নেতা আবু দাউদ, পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর আরিফ প্রমূখ।

এসময় প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যাওয়ার কারনে, আমরা সকল রাজনৈতিক বা নির্বাচনী কর্মসূচি পরিত্যাগ করে, আমাদের আদর্শিক মা’ আমাদের নেত্রীর আত্মার মাগফিরত কামনায় দোয়া করছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষকে তার ভালো কাজের জন্য, তার সৎ কাজের জন্য ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ যেনো তাকে জান্নাত বাসী করেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বরণের পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন।

এরপর দেশনেত্রী তার আপোষহীন নেতৃত্বের কারনে, ততকালীন স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন। এ দেশের মানুষকে স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত করে দেশে সত্যিকারের গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনে দেশের জনগণ বিএনপি তথা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ধানের শীষ প্রতিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছিলেন। তিনি এ দেশের জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশ পরিচালনা করার সুযোগ পেয়ে উনি কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের জন্য সাধারণ গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী, পরে দেশনেত্রী উপাধি পেয়েছেন। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তার নেতৃত্বে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। বর্তমানে দেশের এই ক্রান্তিকালে উনার নেতৃত্ব প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মেনে নিতে হয়েছে, আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি চলে গেছেন।

তবে আগামী দিনে তারই সুযোগ্য সন্তান দেশ নায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের জনগণ স্বাধীনভাবে চলতে পারবে। আগামী দিনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আপামর জনগনের সমর্থন পেলে দেশের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ। 

এদিকে হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে বাজার প্রাঙ্গনে দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব। এতে সভাপতিত্ব করেন হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আমিরুল ইসলাম আন্টু। সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহিন। এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, বার বার নির্বাচিত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে আর নেই। উনার জানাযায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ হয়েছিলো। সারা বিশ্বে এতো মানুষ কারো জানাযায় এ যাবৎ হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাৎ বরণ করলে সে সময় ২০ লাখের অধিক লোক তার জানাযায় অংশ নেয়। আমরা এমন একটি দল করি যে দলের জন্য আমরা গর্ব করতে পারি। তাদের দুজনের আদর্শে আপামর জনগন দলমত নির্বিশেষে সবাই শ্রদ্ধা করে ভালোবাসে।

উনার উত্তরসূরী সুযোগ্য সন্তান দেশ নায়ক তারেক রহমান এ দেশে ফিরে এসেছেন। বিগত ফ্যাসিসট সরকার ২০০৮ সালে উনার উপর নির্যাতন চালিয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। জনগণ যাতে ভোটাধিকার ফিরে পাই, সেজন্য তারেক রহমান দেশের বাইরে থেকেও নির্দেশনা দিয়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে গত বছরে ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আগামী দিনে তারেক রহমান নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলে জনগণের সকল আশা আকাঙ্খা পুরন হবে ইনশাআল্লাহ।