এম আর সবুর, দৌলতপুর ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ২ নং মথুরাপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বাদ আসর দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে মথুরাপুর বড়বাজারে গণতন্ত্রের মানসকন্যা আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব রেজা আহাম্মেদ বাচ্চু মোল্লা,
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ বিল্লাল হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ গোলাম মোস্তফা, কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম ফরজ উল্লাহ সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুরাত আলী সন্টু মেম্বরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি রেজা আহাম্মেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল আপোসহীন সংগ্রামের। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২রা জানুয়ারি রাজনীতিতে পদার্পণ করেন।
১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ১৯৮৪ সালে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন । ১৯৮৬ সালে এরশাদ পতনের আগের জাতীয় নির্বাচন বর্জন মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে সক্রিয় রাজপথের অংশগ্রহণ। নব্বই এ স্বৈরাচার পতনের পর ১৯৯১ ও ৯৬ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন । তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে একমত পোষণ করে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ৯৬ এর জুন মাসের নির্বাচনে বাংলাদেশের সংসদের সবচেয়ে বড় বিরোধী দলের আসনে বিরোধী দলীয় নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৭ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর মইনুদ্দিন ফখরুদ্দিন এর আমলে গ্রেপ্তার হয়ে ৩৭২ দিন কারাবরণ শেষে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান । ২০১০ সালের ২৩ শে নভেম্বর তার ক্যান্টনমেন্ট বাড়ি থেকে তাকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া আরফানেজ মামলায় আবার কারাগারে নেওয়া হয়। পাঁচ বছরের সাজা আপিলে ১০ বছর করা হয়। ২০২০ সালে ২৫শে মার্চ শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি। এর মাঝে বেশ কয়েকবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর ৬ই আগস্ট মুক্তি লাভ করেন।
২৫ সালের ৮ই জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান, লন্ডনের চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরে এসে দলের খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০২৫ সালের ২৩ শে নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন। ৩০ শে ডিসেম্বর দেশবাসীকে কাঁদিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি মহান সৃষ্টিকর্তা যেন তাকে শান্তিতে রাখেন। স্মৃতিচারণের পরে দোয়া পরিচালনা করেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য দৌলতপুর বিএনপির সিনিয়র নেতা আলেমে দ্বীন রুহুল কুদ্দুস।
