খরস্রোতা হিসনা নদী এখন মরা খাল!
একসময়ের খরস্রোতা কুষ্টিয়া ভেড়ামারার হিসনা নদীতে এখন হাঁটু পানি। নদীটি পানির জন্য অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগছে। অনেকেই বাঁধ দিয়ে নদীর বুকে কৃষি আবাদ শুরু করেছে।

খরস্রোতা হিসনা নদী এখন মরা খাল!
ফলে একসময়ের খরস্রোতা হিসনা এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। এতে পরিবেশসহ জীববৈচিত্র পড়েছে হুমকির মুখে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হিসনার উৎপত্তি পদ্মা থেকে। এই নদীর পানি দিয়ে কৃষকরা ভেড়ামারার ও দৌলতপুর বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের জমিতে আবাদ করে থাকে।
হিসনা নদীটি অপর দিকে গাংনী উপজেলার মাথাভাঙ্গা নদীতে গিয়ে ঠেকেছে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। একসময় এই নদী দিয়ে চলতো পালতোলা নৌকাসহ বড় বড় জাহাজ, সেই নদীর আর বাহার নেই। নদীর ভেতরেই চলছে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ। প্রভাবশালীরা নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছেন কেউ কেউ দোকানপাট। এখন এই নদীটি তার যৌবন হারিয়ে পরিণত হয়েছে মরা খালে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নদীটি যেমন ভেড়ামারা উপজেলার অংশীদার ছিল । ঠিক তেমনি শোভাবর্ধন করেছিল উপজেলা শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেরও।
ভেড়ামারার পৌর এলাকার বসতবাড়ি থেকে নির্গত ময়লা পানি, আবর্জনা ও শিল্প এলাকার কয়েকটি কারখানা মিল থেকে নির্গত বর্জ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীটিকে দূষিত করতে থাকে। নোংরা আবর্জনায় দিনদিন নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং না করায় নদীটি তার নাব্য হারিয়েছে। হিসনা নদীর পাড়ে বসতি চাঁদগ্রামের শুকটা মালিথা জানান, ইতোপূর্বে নদীর ভরপুর পানিতে মাছের চাষ করেছি। এখন পানি নেই। নদীর মধ্যে অনেকেই করছে কৃষি আবাদ করছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা বলেন, কারখানার বর্জ্য মিশ্রিত পানিতে অ্যালুমিনিয়াম বেশি থাকে।
এ পানি ব্যবহার করলে ধানগাছ অতি দ্রুত বেড়ে যায় এবং ধানের পাতা কিচ্ছুদিন পর মরে ফলন নষ্ট হয়ে যায়। এ পানিতে কেমিক্যাল ও ধাতব পদার্থ থাকে যা ধান গাছের সঙ্গে মিশে যায়। সেই ধানের ভাত খেলে মানবদেহে চরম ক্ষতি হয়। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আকাশ কুমার কুন্ডু বলেন, শুনেছি হিসনা নদীর বিষাক্ত বর্জ্য মিশ্রিত পানি পরিবেশ দূষণ করছে। অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
