কুমারখালীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্যালকুলেটর কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
হিংসা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ক্যালকুলেটর কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ মে) সকাল ১১ টায় কুমারখালী এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

কুমারখালীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্যালকুলেটর কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
মানববন্ধনে এসএসসি পরীক্ষার্থী মনেম শাহরিয়া ও আসিফ আওসাফের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিত শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধনে পরীক্ষার্থীরা বলেন, ‘ কুমারখালী এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৪৩ জন শিক্ষার্থী কুমারখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরিক্ষা দিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার তাঁদের সাধারণ গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণিত পরীক্ষায় কেন্দ্র সচিব সন্তোষ কুমার মোদক ও ইউএনও প্রতিনিধি মো. মেহেদী হাসান হিংসা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ক্যালকুলেটর কেড়ে নেন। এতে পরীক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন হওয়ায় তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
শুধু এম এন স্কুল নয়, কেন্দ্রের প্রায় সকল শিক্ষার্থীদের ক্যালকুলেটর কেড়ে নিয়েছিলেন কেন্দ্র সচিব ও ইউএনও প্রতিনিধি। তাঁরা গত মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এবিষয়ে কুমারখালী এম এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ মো. বাশার বলেন, এম এন স্কুল প্রতিবছরই উপজেলা সেরা ফলাফল করে। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকারি গার্লস (বালিকা) স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মোদক ও ইউএনও প্রতিনিধি গণিত পরীক্ষায় তাঁর শিক্ষার্থীদের ক্যালকুলেটর কেড়ে নিয়েছেন। তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ইউএনওর কাছে ও বোর্ডে লিখিত জানিয়েছেন।
কুমারখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে কুমারখালী এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জে এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গড়াই মাধ্যমিক, মহেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জগন্নাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তেবাড়িয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের থেকে প্রায় ৪৪৭ জন পরীক্ষার্থী গণিত পরীক্ষায় অংশ নেন। সেদিন পরীক্ষার্থীরা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ক্যালকুলেটর নিয়ে যান। কিন্তু ভুলবশত শিক্ষকরা তাঁদের ক্যালকুলেটর কেড়ে নেন।
তবে হিংসা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতের অভিযোগ অস্বীকার করে কুমারখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ( ভারপ্রাপ্ত) ও কেন্দ্র সচিব সন্তোষ কুমার মোদক বলেন, তিনি আজ বুধবার বোর্ডের নির্দেশনা পেয়েছেন। তিনি বুঝতে পারেন নি। তিনি ভুল করে কিছু শিক্ষার্থীর ক্যালকুলেটর কেড়ে নিয়েছিলেন।

ইউএনও প্রতিনিধি মেহেদী হাসান বলেন, ভুলবশত তিন থেকে চার জনের ক্যালকুলেটর কেড়ে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ফেরত দেওয়া হয়েছিল।
ইউএনও বিতান কুমার মন্ডল মুঠোফোনে বলেন, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করেছেন তিনি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনের পরীক্ষা গুলো যেন নির্বিঘ্নে হয় সেদিকে নজর রয়েছে প্রশাসনের।
