নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় জোরপূর্বক অন্যের জমি দখল করে মসজিদ নির্মাণ করছেন পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের মাহবুববুর রহমান পাখি। ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগাতে সেখানে মসজিদ তৈরির কাজ শুরু করেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রীতম শীল কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান পাখিকে তার অফিসে ডেকে ওই জমিতে মসজিদসহ অন্য কোন স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে গতকাল শুক্রবার তড়িঘড়ি করে মসজিদের কাজ করতে যেয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রমজান আলী (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালের দিকে বারখাদা হঠাৎপাড়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি হলেন ঐ এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারখাদা মৌজায় অবস্থিত ওই জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে কিছু মানুষ। সম্প্রতি জমি মালিক সেখানকার একটি পুকুর বালি দিয়ে ভরাট করেন। কয়েকদিন আগে অবৈধ দখলদাররা ওই ভরাট কৃত জমিতে রাতারাতি পাটকাঠির বেড়া দিয়ে একটি মসজিদ তৈরি শুরু করে। গতকাল শুক্রবার সকালের দিকে জুম্মার নামাজ আদায়ের লক্ষে মসজিদে নিচে বালু ভেজানোর জন্য বাড়ীর পাশ থেকে বিদ্যুৎ লাইন টেনে পুকুর থেকে মটর সাহায্যে পানি তোলার সময় রমজান আলী বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন এবং ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান পাখি এই অবৈধ দখলদারদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তার ইন্ধনেই অবৈধ দখলদাররা ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগাতে সেখানে অবৈধভাবে মসজিদ তৈরির কাজ শুরু করেছে। মালিকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রীতম শীল কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান পাখিকে তার অফিসে ডেকে ওই জমিতে মসজিদসহ অন্য কোন স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে গতকাল মসজিদের কাজ করতে যেয়ে এই মর্মান্তিক মৃত্যু। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে একটি পুকুর ছিল। জমির মালিক বালি দিয়ে পকুর ভরাট করে বাড়ী করার জন্য প্রস্তুতি নেন। কিন্তু স্থানীয়রা তাতে বাধা দিয়ে রাতারাতি একটি মসজিদ গড়ে তোলেন। এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে তদন্তের পরে আরও জানা সম্ভব হবে বলে তিনি বলেন।
