নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া স্বর্ণ পট্টিতে কিছু অসাধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী চোরাই ও ছিনতাইসহ অবৈধ সোনা কেনাবেচা করে বলে বহু দিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। কখনো কখনো এরা ধরা পড়লেও বিভিন্ন ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যায়। এদের মুখের বুলি হয়ে গেছে আমরা তো কাঁচা সোনা কিনি বুঝবো কি করে এটা চোরাই সোনা কিনা। এদিকে কুষ্টিয়া স্বর্ণ পট্টিতে চোরাই স্বর্ণ ক্রয় ও বিক্রয়ের সাথে জড়িতরা ধরা ছোয়ার বাইরে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও সাধারণ স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। গোপন সূত্রে জানা যায়, চোরাই স্বর্ণ ক্রয় ও বিক্রয়ের সিন্ডিকেটটা বেশ লম্বা এবং শক্তিশালী। এরা কুষ্টিয়া শহরের আশপাশের দোকান থেকে প্রায় সোনা কিনে। আর এইসব লোকাল দোকান গুলোর সাথে সোনা চোরাচালানের সিন্ডিকেটের সাথে যোগাযোগ থাকে। এরাই সোনাকে গলিয়ে কাঁচা সোনায় রূপান্তরিত করে। যারা এসব সোনা কেনে তারা আগে থেকেই জানে এবং কম দামে এসব সোনাগুলো ক্রয় করে। বিভিন্ন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, যাদের কারখানা রয়েছে তাদের প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ ভরির উপরে সোনা ক্রয় করা লাগে। এরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে কম দামে সোনা কেনার জন্য লোক ফিট করাই থাকে। কুষ্টিয়া স্বর্ণ পট্টিতে যারা চোরাই স্বর্ণ ক্রয় করেছে এসব ব্যবসায়ীদের যদি প্রশাসন গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে তারা জানান। যখন এরা ধরা পড়ে তখন স্বর্ণ সংগঠনের কিছু ব্যাক্তির সাহায্যে ও কিছু অসাধু সাংবাদিক এদেরকে বাঁচানোর জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যার ফলে এরা রক্ষা পেয়ে যায় এবং পরবর্তিতে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে চোরাই স্বর্ণ ক্রয় ও বিক্রয়ের সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের সদস্যরা। উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে চুরি যাওয়া ১’শ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারে গত ২৪ মার্চ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি আভিযানিক দল কুষ্টিয়ায় অবস্থান নেন। পরবর্তীতে ২৫ মার্চ সকালে জেলার পোড়াদহ বাজারের বিশ্বাস জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত হোসেন আলী নামের একজনকে আটক করেন তারা। হোসেনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী জেলা সদর উপজেলার ঢাকা ঝালুপাড়া সহ আশে পাশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত আরিফ, হাসান আলী, স্বজল, রফিক ও নাসিরকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর আটককৃতদের থেকে তথ্য নিয়ে একই দিন বেলা আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের সোনাপট্টিত সেক্রেটারি আনিস বসাক জুয়েলার্স সহ বেশ কয়েকটি জুয়েলার্সেও অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশের সেই আভিযানিক দল। অভিযান শেষে ছিনতাই হওয়া ১’শ ভরি সোনা’র মধ্যে বড় একটি অংশ উদ্ধার করা হলেও কি পরিমান সোনা উদ্ধার হয়েছে তা’র সঠিক পরিমান নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। গোপন সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া সোনা পট্টিতে একটি সোনা কারবারি সিন্ডিকেট রয়েছে, যারা চোরাই ও ছিনতাই সহ অবৈধভাবে প্রাপ্ত সোনা কেনাবেচা করে। এ রকম তথ্য পেয়েই ঢাকার ডিবির একটি টিম কুষ্টিয়া সোনা পট্টিতে অভিযান চালিয়ে জেলা স্বর্ণ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিসুর রহমান আনিস ৬ ভরি ও বসাক জুয়েলার্স এর স্বত্বাধিকারী মনার ছোট ভাই ধনঞ্জয় পোড়াদহের বিশ্বাস জুয়েলার্স’র মালিক হোসেন’র নিকট থেকে ৫ ভরি সোনা কিনেছে বলে জানা যায়। এছাড়াও জানা যায় মাসখানেক আগেও আনিসুর রহমান আনিসের একাউন্টে নয় লক্ষ টাকার উপরে টাকা জমা হয়। কিন্তু সেই টাকা পরবর্তীতে আবার বগুড়ার এক অজ্ঞাত পার্টি নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আনিস এর সাথে যোগাযোগ হলে, তিনি বলেন ১৫/২০ দিন আগে ৬ ভরি সামথিং সোনা আমি কিনেছিলাম। যা রিকভারি হিসাবে ডিবি পুলিশের কাছে জমা দিয়ে দিয়েছি। তারা আরও কয়েক জায়গায় এইসব সোনা বিক্রয় করেছে বলে তিনি জানান। তার একাউন্টে টাকা আসার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, বগুড়ার এক পার্টি আমার একাউন্টে ভুল করে টাকাটি দিয়েছিল, পরবর্তীতে আমি তাদের টাকা ফেরত দেই। কিন্তু টাকা প্রদানকারী ব্যক্তির কোন নির্দিষ্ট প্রমাণ রাখেননি। ছিনতাই হওয়া সোনা উদ্ধারের বিষয়ে বসাক জুয়েলার্স এর স্বত্বাধিকারী মনা বলেন, আমার ছোট ভাই ধনঞ্জয় ১৫/২০ দিন আগে পোড়াদহের বিশ্বাস জুয়েলার্স’র মালিক হোসেন’র নিকট থেকে ৫ ভরি সোনা কিনেছিলে। সেটা যে ছিনতাই করা সোনা এটা আমরা বুঝবো কিভাবে। একজন জুয়েলার্স মালিক এসে বিক্রি করেছে, আমরা কিনেছিলাম। ডিবি পুলিশের কাছে আমরা সেই পরিমাণ সোনা বুঝিয়ে দিয়েছি। আপনাদের আরো কিছু জানার থাকলে জুয়েলার্স মালিক সমিতির সাথে কথা বলেন।
