বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে প্রায় ২১ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও অবৈধ মালামাল উদ্ধার করেছে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)। পৃথক তিনটি অভিযানে এসব মালামাল উদ্ধার করা হলেও এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান নির্মূলে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এরই অংশ হিসেবে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রথম অভিযানে, ১৮ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে চিলমারী বিওপির একটি টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকার শান্তিপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ১০ বোতল মদ, ২ হাজার ৮১০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ২ হাজার ১৬০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৬ হাজার টাকা। এরপর ১৯ মে ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে প্রাগপুর বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত পিলার ১৪৮/২-এস এর প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রাগপুর কবরস্থান ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে ৬৬০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ২৯০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ১০৫ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়। যার মোট সিজার মূল্য ২ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৫ টাকা। একই দিন ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ধর্মদাহ বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত পিলার ১৪৭/৭-এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ডিজিটি মাঠ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়।
এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ১০ বোতল মদ, ৬৫০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ৩৬০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের সিজার মূল্য ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা। বিজিবি জানায়, তিনটি পৃথক অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ও অবৈধ মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য প্রায় ২১ লাখ ১৪ হাজার ৭৭৫ টাকা। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক বলেন, “সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও অঙ্গীকারবদ্ধ।
