বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বরিয়ায় বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপি’র কার্যালয় ও বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহজাহান আলী হান্নান মেম্বারের বাড়িসহ বেশ কিছু বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আজমত হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ সেনাবাহিনীর টহল দল আটক করেছে বলেও তথ্য দিয়েছে স্থানীয়রা। তবে সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য জানা যায় নি। অস্ত্রসহ আটকের বিষয়টি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেন নি কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতব্বর।
বটতৈল ইউনিয়নের বরিয়া গ্রামের বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, বটতৈল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সাইফুল মেম্বার, ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলু মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবি, মানব কল্যাণ লীগের সভাপতি মামুনুর রশিদ উজ্জ্বল, বটতৈল ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম এবং স্থানীয় আসাদুল কসাইয়ের যোগ সাজেসে ও নির্দেশনায় বরিয়া গ্রামে ৩০ থেকে ৪০ জন হামলাকারী অবৈধ অস্ত্রসহ বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়, বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি শাহজাহান আলী হান্নান মেম্বারের বাড়িসহ বরিয়া বেড় পাড়া, ঘোষপাড়া, ভাদালিয়া পাড়া ও প্রামানিক পাড়ার অন্ততঃ ৮০ থেকে ৯০টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে স্থানীয় একটি মহল।
হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সময় বরিয়া মন্ডলপাড়ার বাসিন্দা সাধন মন্ডলের ছেলে আজমত হোসেনকে অস্ত্রসহ সেনাবাহিনী আটক করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে। এসময় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত অন্য অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়দের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। এতে বটতৈল ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিনের স্ত্রী সোহাগী খাতুন, বরিয়া প্রামানিক পাড়ার মকবুল হোসেনের মেয়ে মানু খাতুন ও একই এলাকার মোঃ মস্তকের স্ত্রী মোছাঃ বুলবুল খাতুনকে কুপিয়ে মারাত্বক জখম করেছে হামলাকারীরা। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছেন।
এঘটনায় বরিয়া জামতলা মোড়ে অবস্থিত বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি শাজাহান আলী হান্নানের ছোট ভাই শিক্ষক নাসির উদ্দিন রাজার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অভিযুক্তরা সিমেন্ট, চাউল, ভুসিমালসহ প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই বরিয়ায় সামাজিক অস্থিরতা চলছে। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এই এলাকার বাসিন্দারা। ঊরিয়া গ্রামে হামলা, ভাঙ্গচুর ও লুটপাট ও আহতের ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, কয়েকদিন ধরেই ওই এলাকায় অস্থিরতা চলে আসছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে তথ্যনুসন্ধানের পর এবিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। এদিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের বরিয়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
