বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় পৌরসভার ময়লার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। শহরের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শিশু পার্ক, কলকাকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, কুষ্টিয়া জজ কোর্ট, সাদ্দাম বাজার ও প্রধান ডাকঘর সংলগ্ন সড়কের পাশে অবস্থিত ডি-টাইপ কোয়ার্টার এলাকায় এই স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে কোয়ার্টারের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে ময়লা রাখার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একসময় ডি-টাইপ কোয়ার্টারটি সরকারি মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সবুজে ঘেরা এ এলাকায় চারটি ভবনে শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মকর্তাদের বসবাস ছিল। পাশাপাশি একটি বড় খেলার মাঠ ছিল, যেখানে নিয়মিত স্থানীয় তরুণদের ক্রীড়া কার্যক্রম চলত।
বর্তমানে চারটি ভবনের মধ্যে দুটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ব্যবহৃত হলেও বাকি দুটি পরিত্যক্ত রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাসপাতালের প্রধান সড়কের পাশে—যেখানে প্রতিনিয়ত মুমূর্ষ রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করে সেখানে ময়লার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। একই সঙ্গে এটি কুষ্টিয়া জজ কোর্ট ও ডিসি কোর্টে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষের প্রধান চলাচলের পথ।
এছাড়াও আশপাশে রয়েছে আবাসিক এলাকা, সরকারি দপ্তর, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ফলে এখানে ময়লা সংরক্ষণ করলে দুর্গন্ধ, জীবাণু এবং রোগবাহী মশা-মাছির মাধ্যমে ডেঙ্গু, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন, হাসপাতালের পাশে ময়লার স্টেশন স্থাপনের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে রোগীদের সুস্থতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হবে। চিকিৎসা সেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই উদ্যোগ বন্ধ করে বিকল্প স্থানে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন করতে হবে।
তবে এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি স্থায়ী কোনো ভাগাড় নয়। পৌরসভার সচিব মেহেদী হাসান বলেন, “এটি অস্থায়ীভাবে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এখান থেকে ময়লা দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। হাউজিং এলাকায় স্থায়ী স্টেশনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি সাময়িক ব্যবস্থা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি পক্ষের অনৈতিক সুবিধার কারণে হাউজিং এলাকার নির্ধারিত স্থান থেকে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন সরিয়ে এখানে স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনস্বার্থবিরোধী এ উদ্যোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম (উপসচিব) বলেন,শহরে এরকম ১০টি স্থানে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণ করা হবে। শহরের প্রত্যকেটি জায়াগায় গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ কিছু না কিছু থাকেই। সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণে এমন কনসেন্ট থাকে। সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন করতে কেউ আমাদের সহযোগিতা করছে না। ময়লা গুলো রাখারও তো জায়গা লাগে। এখানে যদি কেউ বাধা দেয় পরবর্তীতে বিকল্প চিন্তা করা হবে।
