নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া মহাশ্মশানের আজীবন সদস্য ও সাধারণ সদস্য আবেদন ফরম বিতরণে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এই সদস্যভূক্তির কার্যক্রমের আবেদন ফরম বিতরণে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন খোদ মহাশ্মশানের সাধারণ সদস্যরা। তাদের দাবি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পছন্দের মানুষ ব্যতীত আজীবন সদস্য ও সাধারণ সদস্যভূক্তির ফরম কাউকে দেওয়া হয়নি। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে ফরম বিতরণের নির্ধারিত তারিখ শেষ হবার পর নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি টাঙানো হয়েছে। ফরম বিতরণের দায়িত্বে থাকা কুষ্টিয়া মহাশ্মশানের কার্যনির্বাহী পরিষদের কোষাধ্যক্ষ বাবলু কুন্ডুর সাথে এক সদস্যর মুঠোফোন আলাপে সত্যতা পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩০ জুন কুষ্টিয়া মহাশ্মশানের কার্যনির্বাহী পরিষদের ৩য় সভার ৫ নম্বর সিদ্ধান্ত মোতাবেক কুষ্টিয়া মহাশ্মশানের আজীবন সদস্য ও সদস্য সংগ্রহের জন্য সদস্য ফরম বিতরণ ও ফরম জমাদানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার দে স্বাক্ষরিত সাধারণ বিজ্ঞপ্তিতে সদস্য ফরম বিতরণের তারিখ উল্লেখ করা হয় ০১-০১-২০২৪ থেকে ৩০-০৪-২০২৪ পর্যন্ত। এবং টাকা ও ফরম জমাদানের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ মে ২০২৪ পর্যন্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাধারণ সদস্য বলেন,বর্তমান কমিটির সভাপতি নরেন্দ্র নাথ সাহা ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার দে সকল নিয়ম কানুন উপেক্ষা করে আজীবন নিজেদের পদ ধরে রাখার জন্য কুষ্টিয়া মহাশ্মশানের আজীবন ও নতুন সদস্য ফরম বিতরণে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা করেছে। তারা তাদের পছন্দের মানুষকে সদস্য করার জন্য চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ফরম বিতরণের সময় নির্ধারণ করে মেয়াদ পার হওয়ার পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এছাড়া ৩০ জুন ২০২৩ নির্বাহী পরিষদে সিদ্ধান্ত হলেও বিজ্ঞপ্তির তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩। কোষাধ্যক্ষের সাথে মুঠোফোন আলাপের সূত্র ধরে আরেক সদস্য বলেন,আমি কোষাধ্যক্ষকে ফোন দিয়েছিলাম। তার কাছে আজীবন সদস্য ফরমের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে বলেন, তুমি চাইলে একটা কেন একশ’টা ফরম দেয়া যাবে কিন্তু সবাইকে দেয়া যাবে না। এই সদস্য নিয়ম নীতি মেনে পুনরায় নতুনভাবে আজীবন সদস্য ও সাধারণ সদস্য ফরম বিতরণের দাবি তোলেন। অন্যথায় তিনি এই অনিয়মের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান। জানা গেছে, ১৯৮২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া মহাশ্মশানের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন নন্দ দুলাল দে। তিনি প্রায় ৩৫ বছর এই প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে আগে তিনি পরলোক গমন করেন। সাধারণ সদস্যরা জানান,মহাশ্মশানে তিন বছর পর পর কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সভাপতি বিজয় কেজরীওয়ালের অনিহার কারণে ১৭ বছর কোন নির্বাচন সম্ভব হয়নি। ২০১৭ সালের ১৬ জুন বিজয় বাবু সহ কমিটির বেশির ভাগ প্রধান ব্যক্তিদের এক আলোচনায় নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে চলমান কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহক্ষায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সর্বসম্মতিক্রমে কমিটির আহক্ষায়ক করা হয় নন্দ দুলালকে। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নির্বাচন কমিশন তফশীল ঘোষণা করে। কিন্তু বিজয় বাবু প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি উপো করে বাবু নিলয় সরকারের সহায়তায় একটি কমিটির জন্ম দেয়। যার সভাপতি পদে থাকেন বাবু বিজয় এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নিলয় সরকার। একই সাথে অফিস ও স্টোর রুমের তালার উপরে তালা আটকিয়ে দেয়। পরে চলমান কমিটির লাগানো তালা ভেঙ্গে অফিস ও স্টোর রুম দখল করে পূজার বাকি কাজ ঐ কমিটি নিজ হাতে তুলে নেয়। এতে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে দুইটি পক্ষ। বিষয়টি কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য পর্যন্ত গড়াই। তিনি মিমাংসার জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব দেন। অনেক দেনদরবারের পর ২০১৮ সালে নরেন্দ্রনাথ সাহাকে আহক্ষায়ক করে একটি আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়। এই আহক্ষায়ক কমিটির বিরুদ্ধেও ৫ বছরেও কোন নির্বাচন না দেয়া বা কোন কমিটি গঠন না করার অভিযোগ ওঠে। সূত্রে জানা গেছে, নানা বির্তকের পরেও ২০২৩ সালের ১৭ মে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানের কার্যনির্বাহী পরিষদের (২০২৩-২০২৬) কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির একটি প্যানেলের সভাপতি ছিলেন শ্রী নরেন্দ্রনাথ সাহা এবং আরেকটি প্যানেলের সভাপতি বিশ্বনাথ সাহা বিশু। দুইটি প্যানেল অংশগ্রহণ করলেও একটি প্যানেলে ত্রুটি বিচ্যুতির অভিযোগ থাকায় অন্য একটি প্যানেলকে নির্বাচিত করে নির্বাচন কমিশন। কমিটিতে শ্রী নরেন্দ্র নাথ সাহাকে সভাপতি এবং স্বপন কুমার দে কে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ জন কার্যনির্বাহীর নাম ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মানিক কুমার ঘোষ। কোষাধ্যক্ষ বাবলু কুন্ডু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,সভাপতি সবকিছুর দায়িত্বে ছিলেন। আমার কাছে দুইশত ফরম দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি নরেন্দ্র নাথ সাহা অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে সামনা সামনি কথা বলার জন্য দেখা করতে বলেন ।
