বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া-পাবনা অংশে চরতারাপুরের দক্ষিণে ভাড়ারা ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে মহোৎসব চলছে। দিনরাত ডেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের পর চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। এতে একদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব অপরদিকে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আর এসব বালু উত্তোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাড়ারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছেলে বকুল এবং বাচ্চু গংরা। জানা গেছে, লক্ষীকন্ডু নৌ পুলিশের সহযোগীতায় ভাড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মন্তাজের ছেলে চরমপন্থী নেতাবকুল ও বাচ্চু গংরা কুষ্টিয়া-পাবনা অংশে চরতারাপুরের দক্ষিণে ভাড়ারা ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে পদ্মা নদী থেকে এ বালু উত্তোলন করছেন।
এসব বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না স্থানীয়রা। তবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় জানান, ভাড়ারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছেলে বকুল ও বাচ্চু গংরা নৌ পুলিশের যোগসাজশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। রাত দিন প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করছেন। এতে নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। সরকার সব অবৈধ বালুমহল বন্ধ করলেই অদৃশ্য কারণে তাদের থামানো যাচ্ছে না। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে জানালে তারা উল্লেখযোগ্য কোন ভুমিকা নিচ্ছে না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীতে কয়েকটি বাংলা ডেজার বসিয়ে শত-শত বালুবাহী ট্রলার প্রকাশ্যে লাখ লাখ ঘন ফুট বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি অবৈধ বালি উত্তোলন নিয়ে একাধিকবার সশস্ত্র সত্রাসী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়।এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
এরপর নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। রাজশাহী ও খুলনা রেঞ্জের অধীনে কুষ্টিয়া,পাবনা,নাটোর ও রাজশাহী জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক দেশীয় ও আগ্নেয় অস্ত্র সহ শতাধিক নৌ দস্যুকে গ্রেপ্তার করে।এতে নদী পথ শান্ত থাকলেও ঢেলে বকুল ও বাচ্চু গংদের বালু উত্তোলনের কারণে আবারও অশান্ত হয়ে উঠছে নদী পথা। এ বিষয়ে লক্ষীকন্ডু নৌ পুলিশ ফাড়ির পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) খন্দকার শফিকুল ইসলাম ও অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবিষয়ে কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলা প্রশাসনকের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
