কুষ্টিয়া-পাবনা টুইন সিটিতে রুপান্তরিত হবে: জাকির সরকার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া-পাবনা টুইন সিটিতে রুপান্তরিত হবে: জাকির সরকার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২৭, ২০২৬

শিলাইদহ ঘাটে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে 

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দুটি জেলা শহরকে এক শহরে রুপান্তরিত করলে টুইন সিটিতে রুপান্তরিত হবে। কুষ্টিয়া-পাবনা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। তিনি গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) তার ভেরিফাই ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে লিখেছেন, কুষ্টিয়ার শিলাইদহ ঘাটে পদ্মা সেতু হতে পারে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল আর উত্তরবঙ্গের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সোপানঃ

কুষ্টিয়ার শিলাইদহ ঘাটে পদ্মা সেতুর গুরুত্বঃ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের পদ্মা ব্রিজ হবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল আর উত্তরবঙ্গের জন্য “গেম চেঞ্জার”। এটা দেশের ৩য় পদ্মা সেতু, আর যমুনা সেতুর পর উত্তর-দক্ষিণের ২য় লাইফলাইন।

কুষ্টিয়া-পাবনা শহরের যোগাযোগ, পদ্মা নদীর উত্তর পাড়ে পাবনা জেলা শহর আর দক্ষিণ পাড়ে কুষ্টিয়া জেলা শহর, শিলাইদহ ঘাটে পদ্মা নদীতে ব্রীজ হলে কুষ্টিয়া শহর থেকে পাবনা শহরের দূরত্ব হবে মাত্র ১৫ কিঃ মিঃ যাহা কার্যত দুটি শহরকে এক শহরে অর্থাৎ “টুইন সিটি” তে রুপান্তরিত করবে।

উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ, খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ তথা দক্ষিণাঞ্চল থেকে কুষ্টিয়া হয়ে পাবনা-সিরাজগঞ্জ-বগুড়া-রংপুর উত্তরাঞ্চলে যেতে বর্তমান রুট থেকে শিলাইদহ ব্রীজ রুটে ৪৫/৫০ কিঃমিঃ দুরত্ব কম হবে। ফলে এই নতুন রুটে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে সময় কম লাগবে এবং খরচ অনেক কম হবে। অর্থনৈতিক প্রভাব, এউচ বুস্ট: বিশ্বব্যাংকের হিসাবে শুধু এই ব্রিজে কুষ্টিয়া-পাবনা অঞ্চলের এউচ ১.৮% বাড়বে।

কর্মসংস্থানঃ নদীর ২ পাড়ে ইপিজেড, কোল্ড স্টোরেজ, ট্রাক স্ট্যান্ড হবে। আনুমানিক ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি, লালন আখড়া, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, পাবনা মানসিক হাসপাতাল একদিনে ট্যুর। কুষ্টিয়া-পাবনা মিলে “রবীন্দ্র-লালন ট্যুরিজম সার্কিট” হবে। মোংলা-পায়রা বন্দরের সুবিধা, উত্তরবঙ্গ থেকে সরাসরি দিনাজপুরের ধান, বগুড়ার মরিচ, রাজশাহীর আম ৫ ঘণ্টায় মোংলা বন্দরে যাবে। রপ্তানি খরচ টনপ্রতি ২০০০ টাকা কমবে। বিকল্প রুট, যমুনার চাপ কমবে, এখন উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার সব গাড়ি যমুনা সেতু দিয়ে ঢাকা যায়।

শিলাইদহ ব্রিজ হলে রাজশাহী, নাটোর, পাবনার গাড়ি কুষ্টিয়া-ফরিদপুর-পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা যওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। যমুনা সেতুতে ৪০% চাপ কমবে। ঈদে ১০০ কিমি জ্যাম আর হবে না। কৃষি ও ব্যবসা, কুষ্টিয়ার কৃষিপণ্য, ভুট্টা ৩ ঘণ্টায় বগুড়া যাবে। পাবনার পেঁয়াজ, লুঙ্গি ১ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া আসবে। কুমারখালী-পাংশা-ঈশ্বরদী ইকোনমিক করিডোর হবে। দুর্যোগকালীন লাইফলাইন, বন্যা/ঘূর্ণিঝড়ে যদি যমুনা বা মাওয়া রুট বন্ধ হয়, শিলাইদহ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ চালু থাকবে।

সেনাবাহিনী, ত্রাণ ২৪ ঘণ্টায় পৌঁছাবে। এই পোস্ট ঘিরে বিভিন্ন মহল থেকে বেশ সাড়া পেয়েছেন তিনি। তার পোস্টে অনেকে কমেন্ট করেছেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের চিন্তা ভাবনা অতুলনীয়। শিলাইদহ ঘাটে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের জোর দাবিও জানিয়েছেন অনেকে।