দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ চলতি বছরের ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে টিকতে না পেরে দেশ ছাড়েন আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনা। গঠন হয় অন্তবর্তীকালীন সরকার। এরপর স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নামে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও তাদের দাপ্তরিক প্যাডে থেকে নাম পরিবর্তনের দাবী উঠে। যার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে অনেক জায়গা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে হাসিনার। প্রশাসন, অফিস-আদালত, নিরাপত্তাবাহিনীসহ সব দপ্তরে ছাত্র-জনতার আকাঙ্খার পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে।কিন্তু সরকারের দাপ্তরিক কাগজপত্র পরিবর্তনের বিষয়টি কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ‘চোখে’ পড়েনি।
সেকারণে নাম ভুলতে পারেনি কুষ্টিয়া পল্লীবিদ্যুত অফিস। তারা এখনও শেখ হাসিনার বন্দনায় মেতে রয়েছে। এখনও বিদ্যুৎ বিলের কপিতে ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ লিখাটি রয়েছে। পূর্বের মত অক্টোবর মাসে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে পাঠানো গ্রাহক বিলের কপির উপরে শ্লোগান সম্বলিত লেখাটি দেখা গেছে। এনিয়ে জনমনে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।এ বিষয়ে কয়েকজন গ্রাহক বলেন, বিগত হাসিনা সরকারের আমলে সরকারী অফিসগুলোকে নগ্ন দলীয়করণের সর্বোচ্চ চুড়ায় নেয়া হয়েছিল। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসও তার বাইরে ছিল না। এ করণে তারা এখনও শেখ হাসিনাকে ভুলতে পারছে না।
সরকারী সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জনগণের সাথে তামাশা করছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।দৌলতপুর উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের লাবলুল হক ও গোবরগাড়া গ্রামের আকতারুজ্জামান বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিরএমন আচরন নিন্দনীয়। বিলের কপি থেকে দ্রুত শেখ হাসিনার নাম মুছে ফেলার পাশাপাশি এই ভুলের জন্য জনগনের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে কর্তৃপক্ষকে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দৌলতপুর জোনাল অফিসে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মির্জা কে ই তুহিন বলেন, বিলের কাগজগুলো আগের ছাপানো। তাই উল্লেখিত লেখাটি রয়েছে। তবে নতুন বিলের কপিতে থাকবে না। আগের ছাপা কপিতে হচ্ছে আমরা কালো কালি দিয়ে মুছে ফেলার চেষ্টা করছি।
