কুষ্টিয়া-দাশুড়িয়া মহাসড়ক পুনঃনির্মাণ ও প্রশস্তকরণে অনিয়মের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া-দাশুড়িয়া মহাসড়ক পুনঃনির্মাণ ও প্রশস্তকরণে অনিয়মের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৪

রঞ্জুউর রহমান ॥ নির্মানাধীন ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-পাকশী-দাশুড়িয়া (এন-৭০৪) জাতীয় মহাসড়ক পুনঃনির্মাণ ও প্রশস্তকরণের কাজে অনিয়মের দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শেষ না হওয়া সহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রয়েছে নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে মহাসড়ক নির্মানের অভিযোগ।

বিভিন্ন সময়ে একাধিক পত্রপত্রিকায় এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলেও অদৃশ্য কারণে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সূত্র মতে, ২০১৯-২০২০ সালে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে এক শত ৪৭ কোটি ২৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪১৪ টাকা ব্যয়ে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-পাকশী-দাশুড়িয়া (এন-৭০৪) জাতীয় মহাসড়কে ৫১ কিলোমিটার হতে ৬২ দশমিক ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণ ও প্রশস্তকরণের চুক্তি ভিত্তিক কাজ পাই এম এম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। জানা যায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়ার্ক অর্ডার মোতাবেক রাস্তার কাজ শুরু করে ২৬ অক্টোবর ২০২১ সালে।

কিন্তু কাজ  শুরু পর থেকে নানা রকম দুর্নীতি অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে রাস্তা নির্মাণের কাজ। চুক্তি অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর ২০২৩ মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও চুক্তির মেয়াদ ৮ মাস পেরিয়ে গেল এখন পর্যন্ত রাস্তার সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। নির্দিষ্ট সময় কাজ শেষ করতে না পারাই মহাসড়কের চলাচল করে যানবাহন এবং মহাসড়কের পাশে বসবাসকারী মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষই হচ্ছে না।

বার বার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খবর প্রকাশিত হলেও  কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ  কোন কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় দিন দিন অনিয়ম আর দুর্নীতির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এই মহাসড়কের ১২ কিলোমিটারের রাস্তা যেন গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে জনসাধারণের। সমস্ত দূর্ভোগের বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করলেও তাতে কোন প্রকার কর্ণপাত করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে পাশে ৫ ফুট জায়গায় ফুটপাত নির্মান কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পুকুর ও ডোবার পচা কাঁদা।

এছাড়াও ২-৩ দিনের হালকা বৃষ্টিতে ফুটপাতের মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও ফাটলের। নির্মান কাজ শেষ না হলেও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ইতমধ্যে ভাঙ্গনের দেখা দিয়েছে। নয় মাইল কাচারির বাসিন্দা ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, আমি প্রতিবছর আমার এই জমিতে বিভিন্ন রকম ফসল চাষ করি। এবছর জমিতে পাট চাষ করেছি, কিন্তু মহাসড়কের নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড আমার ফসলী জমির মাটি কেটে মহাসড়কের ফুটপাথ নির্মাণের কাজ করছে। এতে আমার ফসলের ক্ষতি হচ্ছে এবং ফসলি জমি গর্ত করায় আমার জমি নষ্ট হয়েছে।

জানতে চাইলে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী লিটন আহমেদ খান বলেন, মহাসড়কে পুকুরের কাঁদা মাটি দিয়ে ফুটপাতের নির্মাণ বিষয়টি আমি দেখিও  নাই, জানিও না। মহাসড়কের ফুটপাত নির্মাণ পুকুরের কাদামাটি ব্যবহারের করার নিয়ম আছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নিয়ম অনুসারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাটি দিয়ে ফুটপাত নির্মাণ করার কথা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যদি কোন ত্রুটি বিচ্যুতে করে, তাহলে তারা সেটি ঠিক করে দিবে।

অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জানতে চাইলে এম এম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’র প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ রাহাত হোসেন বলেন, ফুটপাতের মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে রাস্তার পাশে যে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে তা সংস্কারে আমাদের লোক প্রতিদিন কাজ করছে। আশা করি অল্প কিছু দিনের মধ্যে আমরা মহাসড়কের সব স্থানের গর্ত ঠিক করে ফেলবো।