নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ভাতের হোটেল। প্রথমে সাধারণ ভাতের হোটেলের আড়ালে পরিচালিত হলেও রাত ৮টার পর এসব হোটেলগুলো নিষিদ্ধ দেহ ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত হয়। এই অসামাজিক কার্যকলাপ থামানোর জন্য প্রশাসন ও স্থানীয়রা একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু এতো ক্ষমতার উৎস কোথায বারবার অভিযানের মাধ্যমে হোটেলগুলো ভেঙে দেওয়া হলেও, কিছুদিন পর আবার নতুন করে কার্যক্রম শুরু হয়। এমনকি, সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্টিয়ার কিছু সাহসী সাংবাদিক গোপনে ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে এসব হোটেলের অমানবিক কার্যক্রমের খবর প্রকাশ করেছেন। এর প্রতিবাদে উজানগ্রাম ইউনিয়নের স্থানীয় কিছু নেতা এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা দেহ ব্যবসার সাথে যুক্ত হোটেলগুলোতে অগ্নিসংযোগ করেন। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই সেগুলো পুনরায় চালু হয়। এছাড়া, এসব হোটেলগুলোতে মাদক বিক্রিরও প্রমাণ মিলেছে। গাঁজা এবং নেশাজাতীয় ওষুধ এখান থেকে নিয়মিত সরবরাহ করা হয়, যা এলাকার মানুষজনের কাছে গোপন নয়।
এই নিষিদ্ধ ব্যবসার ফলে ছাত্র সমাজের নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে এবং এলাকার সাধারণ মানুষের মনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। হোটেল মালিক এবং জমির মালিকের ভূমিকা ছিল নিরব। হোটেল এবং জমির মালিকরা দেহ ব্যবসার সাথে জড়িতদের কাছে নিয়মিত ভাড়া আদায় করেন। তাদের ন্যূনতম ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা করে প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রদান করা হয়। এর বিনিময়ে তারা হোটেল চালিয়ে যেতে অনুমতি দেয়। এইভাবে মালিকপক্ষ সরাসরি এই ব্যবসাকে উৎসাহিত করছেন। এলাকার মানুষ এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায়। সন্তানদের পড়াশোনা এবং ভবিষ্যত নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে বারবার অনুরোধ করেও কার্যকর কোনো ফল পাননি। এই অনৈতিক দেহ ব্যবসা এবং মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে হলে হোটেল এবং জমির মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তাদের উৎসাহ ও সহায়তা ছাড়া এই ধরনের কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। এলাকার শুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ, দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই অমানবিক এবং বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ করা হোক। সমাজ এবং ছাত্র সমাজকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। এসব ভাতের হোটেলের আড়ালে চলমান অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধ করতে আমরা সচেষ্ট। স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
