মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক রহমত আলী রব্বান বলেছেন-কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির নতুন কমিটির আহবায়ক কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব জাকির সরকারকে অসংখ্য অভিনন্দন ও ধন্যবাদ যে, কুষ্টিয়ায় বিএনপির সুযোগ্য নেতৃত্ব তাদের হাতেই এসেছে। এবং এই নেতৃত্বেই সারা কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি সুসংগঠিত আছে এবং থাকবে। রহমত আলী রব্বান দীর্ঘ এক মাস ২২দিন চিকিৎসা শেষে গতকাল শনিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে মিরপুর বাসষ্ট্যান্ড থেকে কয়েক হাজার বিএনপি’র নেতা-কর্মী নিয়ে একটি বর্নাঢ্য র্যালী নিয়ে উপজেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুর ঈগল চত্বরে রাজনৈতিক হামলায় আহত হয়ে এতদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তিনি আরো বলেন-হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপির নামধারী কিছু সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে আমাকে জখম করেছিলো, তাদের উদ্দ্যেশ্য ছিলো মিরপুরের মাটি থেকে আমাকে সরিয়ে দিতে পারলেই অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে,আমি সেই সব ভাইদের স্মরণ করে দিয়ে বলতে চাই, এক রহমত আলী রব্বান না থাকলেও অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের হাজারো সৈনিক এই মিরপুরের মাটিতে আছে।রব্বানীকে সরিয়ে দিয়ে অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের রাজনীতি শেষ করা যাবেনা। তার হাতে গড়া সৈনিক অনেক আছে, সেটা আপনারা বিগত দিনে দেখেছেন।
তিনি বলেন-আমি ১ মাস ২২ দিন কর্মস্থল থেকে বাইরে ছিলাম, মিরপুরে বিএনপির রাজনীতি আগের থেকে আরো শক্তিশালী হয়েছে। আপনাদের সেই আশা পূরণ হয়নি।আমরা যদি মনে করতাম,আমরা অনেক কিছু করতে পারতাম। সুসংগঠিত ভাবে আপনারা আমার উপর এই নারকীয় হত্যাচেষ্টা চালিয়ে চলে গেছেন,আমরা এর প্রতিবাদে একটি মানববন্ধন কিংবা প্রতিবাদ সভা করারও চেষ্টা করিনি। সেইদিন যদি প্রতিবাদ সভা কিংবা মানববন্ধন করতাম, এই মিরপুর বাজারে রক্তের হোলিখেলা শুরু হয়ে যেতো, অনেক ঘরবাড়ি ছাই হয়ে যেতো। আমরা অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। আমার নেতা-কর্মীরা কঠিন ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। আমি বার বার নিষেধ করেছি, কোন প্রতিবাদ সভা হবেনা, কোন মানববন্ধন হবেনা। পরবর্তীতে যদি আমার নেতা-কর্মীদের গায়ে হাত দেয়া হয়,আপনাদের সেদিন ছেড়ে দেয়া হবেনা।
যারা এগুলো ঘটিয়েছেন, তাদেরকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। যদি ক্ষমা করে না দিতাম, প্রতিশোধ নেয়ার জন্য আমার সময় লাগতোনা। কারন এই মিরপুরের সাধারন মানুষ আমাদের সাথে আছে। বড় বড় কথা বলেন, বক্তব্য দেন, এই ১৬ বছরে কি করেছেন? কার সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করেছেন? মিরপুরের আপামর জনসাধারণ সবাই তা জানেন। আপনারা হুশিয়ার হয়ে যান, আপনারা সাবধান হয়ে যান। যে ১৫-১৬ বছর আপনারা যা কু-কর্ম করেছেন, জেলা থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত তা সবাই জানেন। অতএব তাদের কাছে আমাদের কিছুই বলা লাগবেনা।অনেক তথ্য প্রমাণ তাদের কাছেই আছে। ৫ তারিখের পর এলাকায় কি সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছেন, এলাকার সবাই তা জানেন। অনেক নেতা বক্তব্যে বড় বড় কথা বলেন, দেশ ছেড়ে বিদেশের মাটিতে গিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। কোথায় ছিলেন সেদিন।
বিএনপিতে কোন সন্ত্রাসীদের জায়গা নেই। আপনারা সন্ত্রাসী ও আওয়ামীলীগের লোকজন নিয়ে এগুলো করে বেড়াচ্ছেন। লক্ষ্য করে দেখুন, বিএনপির কয়জন লোক আপনাদের সাথে আছে? আর আমাদের সাথে বিএনপির লোক ছাড়া অন্য কোন লোক নেই। আজকে এই উপস্থিতি প্রমান করে, মিরপুরের মাটি, অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের ঘাটি। এই মিরপুরের সমস্ত শ্রেণীর মানুষের ভালোবাসা আমার প্রতি আছে। আপনারা আমার জন্য অনেক দোয়া করেছেন, এই দোয়ার কারনেই হয়তো আল্লাহ তায়ালা আপনাদের দোয়া কবুল করেছেন। আপনাদের ঋণ আমি আজীবনেও পরিশোধ করতে পারবোনা। আপনাদের কাছে আমি ঋণী, তাই আমি আপনাদের সাথে বিগত দিনে ছিলাম, এখন আছি এবং ভবিষ্যতেও আমি আপনাদের সাথে থাকবো।
উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ও জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য খন্দকার ওমর ফারুক কুদ্দুসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী রব্বান, পৌর বিএনপি’র সভাপতি ও জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রশীদ, পৌর বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক ইব্রাহিম আলী ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এনামুল হক বাবু। এসময় উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল হক মুকুল, সাবেক কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, সাবেক প্রচার সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মারফত আফ্রিদী, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জহুরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সুলতান আলী, সদস্য সচিব আতাউল হক এমদাদ, বারুইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক মাসুদ, মালিহাদ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি নুরে আল আমিন বুলবুল, ধুবইল ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি বিল্লাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার,
আমলা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক, সদস্য সচিব জাহিদ হাসান, পৌর যুবদলের আহবায়ক সংগ্রাম খান জিল্লু, যুগ্ম আহবায়ক ইফতেখার আলম শিল্পু, নাসিরুজ্জামান রানা, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম মনি, পৌর শ্রমিক দলের আহবায়ক আব্দুল হালিম,উপজেলা ছাত্র নেতা ফরিদ আলী, মিরপুর মাহমুদা চৌধুরী কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মিলন মন্ডল, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক নাসিম মন্ডল, ছাত্রনেতা আবির মন্ডল, ০৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সেলিম হোসেন, ০৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদিন, ০৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
