কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উপেক্ষা করে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার অভিযোগে উঠেছে। ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার (৬ নভেম্বর) কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত হন। পরে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মজমপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রতিবাদ করেন তারা। এসময় বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় পদবঞ্চিত বিএনপির নেতারা বলেন, কুষ্টিয়া জেলার তৃণমূলের ত্যাগী, নির্যাতিত, পরীক্ষিত ও যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে জেলা বিএনপি মনগড়া পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নব গঠিত এই পকেট কমিটি বিএনপি ত্যাগী নেতারা প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কিত একতরফা আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হবে।তারা আরও বলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমি, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সন্মানীত সদস্য ব্যারিস্টার বাগীব রউফ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল মাজমাদার, বিএনপি নেতা নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক মেজবাউর রহমান পিন্টু সহ জেলার ত্যাগী, নির্যাতিত, পরিক্ষিত ও যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। অবিলম্বে পকেট কমিটি বাতিল করে যোগ্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হোক। তা-না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে।

এসময় উপস্থিতি ছিলেন-কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল মাজমাদার, জেলা বিএনপির সাবেক সন্মানীত সদস্য ব্যারিস্টার বাগীব রউফ চৌধুরী, নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক মেজবাউর রহমান পিন্টু সহ বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, মহিলা দল সহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা উপস্তিত ছিলেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নব গঠিত জেলা বিএনপির নেতারা বলেন, জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের বিষয়টি কেন্দ্রের। কেন্দ্র থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ত্যাগীদের মূল্যায়ন করার ফলে পুরনোরা বাদ পড়েছেন।

তবে আমরা সবাই মিলে একসাথে দলের জন্য কাজ করতে চাই। আমরা গ্রুপিংয়ের রাজনীতি চাই না। আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে চাই। কিন্তু কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল মাজমাদার, বিএনপি নেতা নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক মেজবাউর রহমান পিন্টুর মত ত্যাগী নেতাদের বাদ পড়ার বিষয়ে কোন জাবাব দিতে পারেনি তারা।বিগত আওয়ামী লীগ সকারের শাসনকালে সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমি, অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কাজল মাজমাদার, নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু এবং মেজবাউর রহমান পিন্টু বিএনপির সকল আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন প্রথম সারিতে। দলের প্রয়োজনে একাধিক মামলা-হামলার স্বীকারও হয়েছেন তারা।

আওয়ামী লীগের রোশানলে পড়ে কুষ্টিয়া ছেড়ে দীর্ঘ দিন আত্নগোপনে ছিলেন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজল মাজমাদার। এই সকল ত্যাগী নেতাদের আহ্বায়ক কমিটিতে জায়গা না হওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এবং কমিটি বাতিল করে নতুন করে কমিটি ঘোষনা না করা হলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৮ মে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমিকে সভাপতি ও অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা বিএনপি’র সবশেষ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর গত ১২ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির কমিটি বাতিল করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তিতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুই সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ গত সোমবার (৪ নভেম্বর) বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট এ আহ্বায়ক কমিটির খবর জানানো হয়।