কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ এর ইতিহাস
কুষ্টিয়া জেলা বাংলাদেশ পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিট। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কুষ্টিয়া শুধু সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবেই নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ইতিহাসেও অনন্য। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই জেলার পুলিশ বাহিনী যে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম প্রদর্শন করেছে, তা জাতীয় ইতিহাসে গর্বের সাথে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাদের বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার পুলিশ বাহিনীকে “স্বাধীনতা পদক” প্রদান করে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ আজও সেই ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, কমিউনিটি পুলিশিং, সাইবার অপরাধ দমন এবং সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযান—সবক্ষেত্রেই কুষ্টিয়া পুলিশ দেশের অন্যতম আদর্শ জেলা পুলিশে পরিণত হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্য্যালয়
ব্রিটিশ শাসনামলে পুলিশ প্রশাসনের কাঠামো আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া অঞ্চলে থানাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা তৈরি হয়। সে সময় কুষ্টিয়া নাটোর ও পাবনা জেলার অংশ হিসেবে পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতে Police Act প্রবর্তন করলে পুরো উপমহাদেশে আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সূচনা হয়। একই আইনের আওতায় কুষ্টিয়া মহকুমায় নতুন পুলিশ প্রশাসন কার্যকর হয়।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর কুষ্টিয়া জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। জেলা গঠনের সঙ্গে সঙ্গে কুষ্টিয়ায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়, নতুন থানা ও কয়েকটি আউটপোস্ট স্থাপন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর পৃথক জেলা হওয়ার পর কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ আধুনিক কাঠামোয় পুনর্গঠিত হয়। এতে পুলিশের দায়িত্ব এলাকা নির্দিষ্ট হয়, নতুন স্টেশন স্থাপন হয়, এবং পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হয়।
১৯৭১ সালের মার্চ–এপ্রিল মাসে পশ্চিম পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রথম বাহিনীগুলোর অন্যতম।
২৫ মার্চের গণহত্যার পর কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
পুলিশ বাহিনীর অবদান:
মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদান অমলিন রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার পুরো পুলিশ বাহিনীকে “স্বাধীনতা পদক” প্রদান করে। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ এই সম্মানের অন্যতম প্রধান অংশীদার।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে স্বাধীনতা ভাস্কর্য ‘অর্জন’।
এর উদ্দেশ্য—
ভাস্কর্যটি কুষ্টিয়া জেলার গৌরবময় ইতিহাসের দৃশ্যমান প্রতীক।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ বর্তমানে নিম্নোক্ত ইউনিটগুলো নিয়ে কাজ করছে—
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ বর্তমানে যে সেবাসমুহ ডিজিটালি প্রদান করছে—
এসব সুবিধা জনগণের কাছে পুলিশ সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কুষ্টিয়া বাংলাদেশের অন্যতম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা হিসেবে পরিচিত। জেলা পুলিশ নিয়মিত—
ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার ফলে কুষ্টিয়া পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
কুষ্টিয়া পুলিশ বিশ্বাস করে— “পুলিশ একা কোনো সমাজের শান্তি বজায় রাখতে পারে না; জনগণের সহযোগিতাই মূল শক্তি।”
সুতরাং জেলা পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছে—
জনগণের সহযোগিতায় কুষ্টিয়ায় অপরাধের হার নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকছে।
কুষ্টিয়ার নাম নিয়ে প্রচলিত তিনটি মত—
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের ইতিহাস শুধুমাত্র একটি প্রশাসনের বিবরণ নয়; এটি সাহস, আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও মানবিকতার এক দীর্ঘ যাত্রাপথ। মুক্তিযুদ্ধ থেকে আধুনিক ডিজিটাল যুগ—প্রতিটি পর্বে কুষ্টিয়া পুলিশ তাদের দায়িত্বশীলতা, সততা ও পেশাদারীত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে।
জনগণের সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ ভবিষ্যতেও একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।
