কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১৬, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার (১৫ মার্চ) নিয়োগ দেওয়া হয় তাদের প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সরকারের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জেলা পরিষদসমূহের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগের তালিকায় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। তিনি বারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় একজন লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি স্বৈরাচার সরকার পতন আন্দোলনের অকুতোভয় যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক। কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলা পরিষদগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার পর তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন  “সম্মান দেওয়ার মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা।”

জীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় রাজপথের সংগ্রাম, দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য আর বারবার কারাভোগের কণ্টকাকীর্ণ সময় পার করে আজ আমি এক নতুন দায়িত্বের দোরগোড়ায়। একাত্তরের রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যেমন দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করেছিলাম, তেমনি চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও রাজপথে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। এই মুহূর্তে আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং আমাদের সংগঠনের প্রাণপ্রিয় চেয়ারম্যান, দেশনায়ক তারেক রহমান-এর প্রতি। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের দুঃসময়ে যেমন হাল ধরেছিলাম, তেমনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে যে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছি, তা আমার রাজনৈতিক জীবনের এক বড় প্রাপ্তি।

বিগত দিনে আপনাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আমি কুষ্টিয়া-৩ সংসদীয় আসনের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছিলাম। আজ আবারও সংগঠনের পক্ষ থেকে যে নতুন সম্মান ও গুরুদায়িত্ব আমাকে অর্পণ করা হয়েছে, তাকে আমি পবিত্র আমানত হিসেবে গ্রহণ করছি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশ ও দলের কল্যাণে যে লড়াই করেছি, সেই ত্যাগের মূল্যায়ন করায় আমি আপ্লুত। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসাই আমার পথচলার শক্তি; দোয়া করবেন যেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই নতুন দায়িত্ব পালন করে আপনাদের এই সম্মানের মর্যাদা ধরে রাখতে পারি।

একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলায় আরও ৪১ জনকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে পঞ্চগড়ে মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, দিনাজপুরে মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, রংপুরে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রামে মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, গাইবান্ধায় অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জয়পুরহাটে মো. মাসুদ রানা প্রধান, বগুড়ায় এ. কে. এম. আহাসানুল তৈয়ব জাকির, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মো. হারুনুর রশিদ, নওগাঁয় মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, রাজশাহীতে মো. এরশাদ আলী, নাটোরে মো. রহিম নেওয়াজ, মেহেরপুরের মো. জাভেদ মাসুদ, ঝিনাইদহে মো. আবুল মজিদ, যশোরে দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, মাগুরায় আলী আহমেদ, বাগেরহাটে শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, খুলনায় এস. এম. মনিরুল হাসান (বাপ্পী), পটুয়াখালীতে স্নেহাংশু সরকার, ভোলায় গোলাম নবী আলমগীর, বরিশালে আকন কুদ্দুসর রহমান,

ঝালকাঠিতে মো. শাহাদাৎ হোসেন, পিরোজপুরে আলমগীর হোসেন, টাঙ্গাইলে এস. এম. ওবায়দুল হক এবং শেরপুরে এ. বি. এম. মামুনুর রশিদন। এছাড়া ময়মনসিংহে সৈয়দ এমরান সালেহ, নেত্রকোনায় মো. নূরুজ্জামান (এড.), কিশোরগঞ্জে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, মুন্সীগঞ্জে এ. কে. এম. ইরাদত, নারায়ণগঞ্জে মো. মামুন মাহমুদ, রাজবাড়ীতে আব্দুস সালাম মিয়া, গোপালগঞ্জে শরিফ রফিক উজ্জামান, মাদারীপুরে খোন্দকার মাশুকুর রহমান, শরীয়তপুরে সরদার এ. কে. এম. নাসির উদ্দিন, সুনামগঞ্জে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেটে আবুল কাহের চৌধুরী, মৌলভীবাজারে মিজানুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিরাজুল ইসলাম, কুমিল্লায় মো. মোশতাক মিয়া, নোয়াখালীতে মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, লক্ষ্মীপুরে সাহাব উদ্দিন এবং কক্সবাজারে এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী।