নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সমগ্র বাংলাদেশর সাংস্কৃতিক রাজধানী নামে খ্যাত। অথচ জেলা কালচারাল অফিসার মো. সুজন রহমানের স্বেচ্ছাচারিতায় এই জেলা শিল্প-সংস্কৃতিক আজ প্রায় ধক্ষংসের দ্বারপ্রান্তে। নিচের ইচ্ছামত কাজ, ক্ষতার অপব্যহার এবং স্বজন প্রীতি সহ নানা অভিযোগ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নিজের ক্ষমতা এবং প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ তিনি দখল করে রেখেছেন জেলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা একাডেমী। জেলার বিভিন্ন সংকারী এবং বে-সরকারী অনুষ্ঠানে তিনি তার পছন্দের শিল্পী এবং সংগঠনকে দিয়ে করিয়ে থাকেন বলে তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও শিল্পকলা একাডেমীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংগ্রহন তার অনুমতি ব্যতিত কোন ভাবেই সম্ভব নয়। যার ফলে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও জেলার বিভিন্ন সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিজেদের তুলে ধরতে পারেন না অনেকেই। এই কারণেই জেলায় নতুন করে কোন গুণি শিল্প বা শিল্প সংগঠন গড়ে উঠছে না বলেই অনেকের দাবী। অনেক শিল্পীদের মতে পুরো জেলা শিল্প-সংস্কৃতি একজনের হাতে বন্দী। জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে প্রতিবছর ১লা বৈশাখ, বিশ^কবি রবীন্দ্রঠাকুরের জন্ম বার্ষিকী ও মৃত্যু বার্ষিকী সহ বেশ কয়েক বড় এবং আর্ন্তজাতিক মানের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এছাড়াও জেলা শিল্পকলা দিক দিকনির্দেশনায় এবং তত্ত্ববধায়নের প্রতিছবর উপজেলা গুলোতেও নানান সংস্কৃতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সংস্কৃতি অনুষ্ঠান ব্যতিতও জেলা শিল্পকলার আয়োজনে পিঠা উৎসব সব আরো এহিত্যবাহী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা প্রশাসন বা শিল্পকলার আয়োজনে কোন সংস্কৃতি অনুষ্ঠান হলে সেখানে জেলা কালচারাল অফিসার মো. সুজন রহমান এবং তার স্ত্রী রোখসানা পরভীন লাকি দখলে থাকে অনুষ্ঠানের অধিকাংশ সময়। যার ফলে জেলা অনান্য শিল্পীরা তাদের প্রতিভা প্রদর্শন থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে। যদিও তাদের ভয়ে কোন শিল্পী বা প্রতিষ্ঠান মুখ খুলতে চান না। তবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান সুযোগ না পেয়ে অনেক শিল্পীকে হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়। গত ৭ই মার্চ ২০২৪ তারিখে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত হয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সন্ধা। ঐ অনুষ্ঠনে জেলা শিল্পকলা একাডেমী পক্ষ থেকে দুই শ্রেণীর টিকিট বিক্রয় করা হয়েছিলো। সাধারন এবং ভিআইপি। যার মূল্য ছিলো অকাশ ছোয়া। একটি সাধারণ টিকেটের মূল্য ধার্য করা হয়েছিলো ১’শ টাকা এবং ভিআইপি টিকেটের মূল্য ধার্য করা হয়েছিলো ৫’শ টাকা। যা একটা জেলা শহরের জন্য অতিরক্তি এবং অতিরঞ্জিত। এছাড়াও এই বছরের ৩১ শে জানুয়ায়ী থেকে ২ ফেব্র“য়ারী তিন দিন ব্যাপি জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে জাতীয় পিঠা উৎসব বাংলা ১৪৩০ অনুষ্ঠিত হয়।

যদিও কোন নিয়ম নীতির পরোয়া না করে ঐ পিঠা উৎসবকে বর্ধিত করে ৩ ফেব্র“য়ারী করা হয়। সেরা পিঠাশিল্পী ও স্টল নিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিলো জেলা কালচারাল অফিসার মো. সুজন রহমানের বিরুদ্ধে কিন্তু তার ক্ষমতার কাছে কোন অভিযোগ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। নামে জাতীয় পিঠা উৎসব হলেও ঐ উৎসবে পিঠার স্টলের চেয়ে অনান্য স্টলই ছিলো বেশী। জানা যায়, কুষ্টিয়া শিল্পকলার কালচারাল অফিসার সুজন রহমানের মা স্ত্রী ও স্বজনরা সেরা পিঠাশিল্পী ও স্টলের পুরস্কার পায়। পিঠা উৎসব হলেও পুরস্কারের ক্যাটাগরিতে ছিল কিচেন হাউজ, কেক হাউস ও হস্তশিল্প। স্বজন প্রীতির মাধ্যমে কালচারাল অফিসার তার মা ও স্ত্রী স্বজনদের মাধ্যমে সম্মাননা পুরস্কার নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্যসূত্রে জানা যায় , দেশব্যাপী জাতীয়ভাবে এই পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতেই আয়োজন করে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মনোগো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও শিল্পকলা একাডেমীর কোন শিল্পীকে দিয়ে সেখানে গান গাওয়াতে দেখা যায়। এই মেলার জন্য সরকারিভাবেই বাজেট করা হয় লক্ষ টাকা। কিন্তু এই মেলায় স্টল বাবদ নেওয়া হয়েছে ১৫০০ টাকা করে। ৩৯ টি স্টল এর মধ্যে সব থেকে বড় এবং সামনে অবস্থান ছিল কালচারাল অফিসার সুজনের স্ত্রীর প্রথমা হস্তশিল্পর স্টলটি। ৮ ফিট বাই ৮ ফিট প্রতিটা স্টোনের মাপ থাকলেও তার স্ত্রীর দোকান ছিল প্রায়ই তিনগুণ। জানিয়ে মেলা শুরুতেই ফুসে ওঠে মেলায় অংশগ্রহণকারীরা। সম্মাননা স্মারক হিসেবে প্রতিটা স্টল মালিকদের কি করে সনদপত্র দেওয়া হয়েছে । যার প্রতিটি প্রিন্টের মূল্য ৩০ টাকা করে জানা গেছে। এদিকে সেরা স্টল ও পিঠা শিল্পীদের ছয়জনের প্রতিটি কেসের দাম ৩০০০ টাকা করে কেনা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বয়ং কালচারাল অফিসার সুজন। সেরা স্টলের সাজসজ্জা র দিক থেকে প্রথমা হস্তশিল্প ঠিকঠাক থাকলেও বাকি ২ স্টল নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। একজন কফি মেক করে এবং অন্যজন কেক বিক্রি করেই সেরা স্টলের পুরস্কার পাওয়ায় বিচারকদের বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। তবে তবে বিচারকরা জানিনা কোন স্টল কে সেরাপুরস্কার দেওয়া হয়েছে। যাহার বিচারকদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিভাবে সেরা স্টল এবং সেরা পিঠাশিল্পী নির্বাচন করা হয়েছে তা নিয়েও বিচারকদের মধ্যে রয়েছে মতবিরোধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা শিল্পকলা একাডেমীর এক সহ-সভাপতি জানান , কালচার অফিসার সুজন সে নিজের মন মতন পুরস্কার দিয়েছে কাকে দিলো কিভাবে দিল সেটা আমরা জানি না। এ ঘটনায় মেলায় অংশ নেওয়া এক উদ্যোক্তা নারী জানান, সঠিকভাবে বিচার বিশ্লেষণ না করেই সেরা স্টল এবং পিঠাশিল্পীদের পুরস্কার প্রদান করেছে সুজন। সামান্য এই মেলায় সুজন যে স্বজন প্রীতি করেছে লজ্জা জনক। বেশি কোন অনুষ্ঠান হলে সে কি করবে আল্লাহই ভালো জানে। আমরা এরকম কালচার অফিসার চাইনা। খোঁজ আরো জানা যায়, জেলা শিল্পকলার কালচারাল অফিসার হাওয়ার কারণে জেলা জেলা শিল্পকলা একাডেমীকে ব্যবহার করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয়ের পথ খুলে নিয়েছেন তিনি। হিন্দোল শিল্প গোষ্ঠী নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিচালনা করেন জলা কালচারাল অফিসার মো. সুজন রহমান এবং তার স্ত্রী রোখসানা পরভীন লাকি। সেই কারণেই জেলা ব্যাপি কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেই হন্দোল শিল্প গোষ্ঠী’র পরিবেশনা থাকে নিয়মিত। যেই কারণে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে বিভিন্ন কোর্সে প্রশিক্ষণ নিতে আসা ছাত্র-ছাত্রীরা পরবর্তিতে বেশী সুযোগ পাওয়ার জন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমীর পাশাপাশি হিন্দোল শিল্প গোষ্ঠীতে ভর্তি হন। আবার অনেকেই জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কোর্স বাদ দিয়ে শুধু হিন্দোল শিল্প গোষ্ঠীতে চলে যান। যার ফলে জেলা শিল্পকলা একাডেমী কার্যক্রম এবং লক্ষ ব্যহত হচ্ছে। আর সেই কারণেই জেলার শিল্প-সংস্কৃতি একপ্রকার হুমকির মুখে পড়েছে। আর এই সমস্ত অবেহলা থেকে পরিত্রান চান জেলার শিল্পীরা। জানতে চাইলে জেলা কালচারাল অফিসার সুজন রহমানের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ না কারায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি রাস্তায় আছি মোটর সাইকেলর উপরে। এখন কিছু বলা যাবে না। সন্ধার পরে রিং দিও। এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর গবেষণা অফিসার (বাজেট ও প্লানিং) মোছাঃ সামসুন্নাহার আক্তার বলেন, এই বিষয়ে আপনার মনে হয় কোথাও ভূল হচ্ছে। আপনি এই বিষয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক ও কালচারাল অফিসারের সাথে কথা বলেন। উনারা আপনাকে ভালো সলিউশন দিতে পারবে। তবে আমি শুনেছি সারা দেশে পিঠা মেলাতে অনান্য স্টলই বেশী ছিলো।
