বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতি-এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদী বার্ষিক নির্বাচনকে ঘিরে আদালতপাড়ায় বইছে উৎসবের আমেজ। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনে সমিতির ১৭টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৫ জন প্রার্থী। মোট ভোটার সংখ্যা ৪৩৪ জন। নির্বাচন সামনে রেখে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর জেলা আদালত চত্বর। ফেস্টুন-ব্যানারে সেজেছে পুরো আদালতপাড়া। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন চাওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় প্রার্থীরা। বিশেষ করে তরুণ আইনজীবীদের সমর্থন পেতে নানা অভিনব প্রতিশ্রুতি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে এ সমিতির নির্বাচনে স্পষ্ট প্যানেলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেলেও এবার দৃশ্যপট কিছুটা ভিন্ন।
প্রকাশ্যে কোনো প্যানেল ঘোষণা না থাকলেও মাঠপর্যায়ে দুটি অনানুষ্ঠানিক ধারার গুঞ্জন রয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য। তাঁদের ভাষ্য, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবেই অধিকাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচন করছেন। তবে পেশাগত স্বার্থ, বারের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অবস্থান—সব মিলিয়ে ভেতরে ভেতরে দুই ধরনের সমর্থনজোট গড়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি পদে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থী খন্দকার সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ আবু সাঈদ এবং সোহেল খালিদ মোঃ সাঈদ। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন মোঃ আকরাম হোসেন দুলাল ও মোঃ আব্দুর রহমান। সহ-সভাপতি পদে লড়ছেন মোঃ মাহমুদুল হক চঞ্চল, মোঃ নিজাম উদ্দিন ও এস এম মনোয়ার হোসেন মুকুল।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত এস এম শাতিল মাহমুদ ও খ ম আরিফুল ইসলাম রিপন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নাজমুন নাহার, মোঃ আব্দুস সাত্তার (শাহেদ) ও মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম (মনিরুল) রয়েছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে লড়ছেন মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সেনা, মোঃ ইকবাল হোসেন টুকু ও মোঃ মকলেছুর রহমান পিন্টু। এছাড়া গ্রন্থাগার সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, সিনিয়র সদস্য (৪টি পদ) ও জুনিয়র সদস্য (৪টি পদ) পদেও একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট কে এম আব্দুর রউফ। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহারে বারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতি চালু, মামলার কেস ম্যানেজমেন্টে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জুনিয়র আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
সাধারণ ভোটার আইনজীবীদের অনেকেই বলছেন, তাঁরা এমন নেতৃত্ব চান যারা রাজনৈতিক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে থেকে বারের মর্যাদা রক্ষা করবেন এবং নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের পেশাগত সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার দেবেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালের নির্বাচনে ২০২৫–২০২৬ মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হন হারুনুর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক হন বিএনপি সমর্থিত অ্যাডভোকেট এস এম শাতিল মাহমুদ। সে সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও শেষ পর্যন্ত দুই ধারার প্রতিনিধিরাই নেতৃত্বে আসেন। নতুন নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই অভিজ্ঞতা ঘিরে আবারও আলোচনায় সরগরম আদালতপাড়া। এবার কী ধরনের নেতৃত্ব গড়ে ওঠে—তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে আইনজীবী মহলে।
