বিশেষ প্রতিনিধি ॥ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান আকস্মিক পরিদর্শনে এসে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আউটডোরে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত না থাকার বিষয়টি দেখতে পান। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবদুল মান্নানকে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে আউটডোরের দায়িত্বে থাকা ৬ জন চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। শোকজপ্রাপ্তরা হলেন, মেডিকেল অফিসার ডা. ফেরদৌস পারভেজ, ডা. মো. রুমন রহমান, ডা. সুপর্ণা লতিফ আহমেদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং ডেন্টাল সার্জন ডা. মো. রাজিব হাসান। আর একজনের নাম জানা যায়নি।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অফিস চলাকালীন সময়ে দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত থাকা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এবং নিয়মিত উপস্থিতি বিধিমালা ২০১৯-এর পরিপন্থী। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে হাসপাতাল ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রোগীদের নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হওয়া এবং দায়িত্বে গাফিলতির কারণে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এছাড়া একটি দালাল চক্র রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রতারণার শিকার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মান্নান শোকজের সত্যতা স্বীকার করে জানান, চিকিৎসকরা হাসপাতালে উপস্থিত থাকলেও তারা নিজ নিজ কক্ষে ছিলেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দুইজন জবাব দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে। রোগীদের ভোগান্তি কমাতে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং জনবল সংকট নিরসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, একই দিনে হাসপাতালের ইসিজি বিভাগের ইনচার্জ মেহেদী হাসান সুমনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে মেডিকেল টেকনিশিয়ান আকরাইম হোসেনকে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
