নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে শিশু চোর সন্দেহে রহিমা আক্তার মুক্তা (৩৫) এক নারীকে গণধোলাই দিয়ে আহত করা হয়েছে। হাসপাতালের রোগীদের স্বজন ও বহিরাগতরা তাকে গণধোলাই দেয়। এতে সেই নারী আহত হয়েছেন। তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটেছে।
আহত রহিমা আক্তার মুক্তা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ইসলামের স্ত্রী। মুক্তার স্বামী জাহাঙ্গীর বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে আমার স্ত্রীর মানসিক সমস্যা। সে পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। সে পাগলী৷ আমার স্ত্রী শিশু চুরি করেনি। কিন্তু শিশুর চোর সন্দেহে গণধোলাই দেয়া হয়েছে। রোগীর স্বজনরা ও বহিরাগতরা আমার স্ত্রীকে গণধোলাই দেয়। এতে আমার স্ত্রী আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ৫ দিন ধরে হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ৫ বছর বয়সী অনিক। শিশুর বাবা অনিক ও তার মা জেমি খাতুন বলেন, আমাদের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার আলমা তলায়।
গতকাল সন্ধ্যার আগে ওই নারী আমাদের ওয়ার্ডে এসে ঘোরাঘুরি করছিলো। দুই বা আড়াই ঘন্টা ধরে সে এভাবে ঘোরাঘুরি করছিলো। আমারা ধরনা করছিলাম সে শিশু চোর। চোর সন্দেহের তাকে রোগীর স্বজন ও বহিরাগতরা তাকে মারপিট করে। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনরা বলেন, চোর সন্দেহের তাকে মারপিট করা হয়েছে। হাসপাতালের রোগীর স্বজনরা ও বহিরাগতরা মারপিট করে আহত করেছে। রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে আমি কিছুই জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।
জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, শিশু চোর সন্দেহে মুক্তা নামের এক নারীকে গণধোলাই দিয়ে আহত করা হয়েছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে এখনই আশংকামুক্ত বলা যাচ্ছে না। কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, শিশু চোর সন্দেহে এক নারীকে গণধোলাই দিয়ে আহত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সঠিক না। সেই নারী মানসিক সমস্যা আছে।
