মোশারফ হোসেন ॥ কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ সময়ে জমে উঠেছে।এলাকার সবর্ত্রই এখন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সর গরম হাওয়া বইছে। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার গ্রাম-গঞ্জের পথে-প্রান্তরে, মাটে-ঘাঠে, দোকান, চা-স্টলসহ সর্বত্রই চলছে নির্বাচনের আলোচনা-সমালোচনা। এবার উপজেলাতে সব চাইতে আকর্ষণীয় বিষয় হল বাবা – ছেলে ও ভাবি দেবরের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জমে উঠেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। প্রার্থীরা নিজের জয়কে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যে প্রার্থীরা প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রতিটি জনপদ ও ভোটারের বাড়ি বাড়ি চষে বেড়াচ্ছেন। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করার ফুরসত নেই প্রার্থী ও কর্মীদের হাতে। নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে নিজের পরিবারসহ কর্মীদের নিয়ে ছুটছেন সবাই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে আর দিচ্ছেন হাজারও রকমের প্রতিশ্র“তি।উপজেলার সর্বত্রই জনসাধারণদের মাঝে সকাল থেকে সন্ধ্যারাত পর্যন্ত চলছে বিভিন্ন প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। ২০২৪ সালে প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বড় আর্কষণ হলো ক্ষমতাসীনদের প্রর্থীদের নিয়ে। এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাবুল আখতার মোটরসাইকেল প্রতীক, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খানের এর ভাই রহিম উদ্দিন খান, দোয়াত কলম, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল মাসুম মুর্শেদ শান্ত, ঘোড়া প্রতীক , প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী রহিম খানের ছেলে শাওন মামুদ খান, কাপ প্রিচ, ছালেহা বেগম আনারস ও ছালেহা বেগমের দেবর সাইফুল ইসলাম, হেলিকপ্টর প্রতীক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবার উপজেলা নির্বাচনে। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৮ মে । অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে ৫০ টি কেন্দ্রে মোট ৩৪২ টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে । উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১লক্ষ ১৬ হাজার ৮ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৮ হাজর ৫’শ ২২ জন এবং মহিলা ভোটার ৫৭ হাজার ৪’শ ৮৬ জন । উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যে, এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে তৈরি করা হয়েছে প্রার্থীদের পোস্টার দিয়ে ভোটের অফিস আর চলছে নানা রকম চা পানের আয়োজন। বেলা দুইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলছে মাইক দিয়ে প্রচারণা। এলাকার রাস্তা-ঘাঠ ছেঁয়ে গেছে সাদা-কালো ছবি যুক্ত পোস্টারে। নির্বাচনকে ঘিরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ীদের ব্যবসা এখন জমজমাট। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রির্টানিং কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, আগামী ৮ মে প্রথম পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী প্রচারণার কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। যদি বিধি লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে আমরা তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
