কুষ্টিয়া খাদ্যনিয়ন্ত্রক অফিস থেকে ৭০ পয়সা চুক্তিতে গম যাচ্ছে মিলে - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া খাদ্যনিয়ন্ত্রক অফিস থেকে ৭০ পয়সা চুক্তিতে গম যাচ্ছে মিলে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ৯, ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক অফিসে নানা অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গম সরবরাহে মিলারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, বন্ধ  মিলের নামেও বরাদ্দ রয়েছে গম। এছাড়াও একাধিক ওএমএস ডিলার অনুপস্থিত থেকে তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ডিও করে পাচ্ছে চাল ও গম। অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের আওতায় ৯টি মিল গম বরাদ্দ পেয়ে থাকে। এগুলো হলো-মেসার্স কুষ্টিয়া ফ্লাওয়ার মিল, মেসার্স কর্ণফুলী অটো ফ্লাওয়ার মিল, মেসার্স লালন শাহ্ ফ্লাওয়ার মিল, মেসার্স গড়ায় অটো ফ্লাওয়ার মিল, মেসার্স সাব্বির অটো ফ্লাওয়ার মিল, মেসার্স সিআরপি ফ্লাওয়ার মিল, মেসার্স আকবর এগ্রো প্রোডাক্টস অটো ফ্লাওয়ার মিল, মেসার্স গ্রামীণ অটো ফ্লাওয়ার মিল, মেসার্স গিনি অটো ফ্লাওয়ার মিল। সেই মিলগুলো গম ভাঙিয়ে ৭৭% ময়দা সরবরাহ করে। সেই ময়দা ও এমএস ডিলাররা নিয়ে থাকে। একাধিক মিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গম সরবরাহ নিতে কেজিতে ৭০ পয়সা করে দিতে হয় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের উচ্চমান সহকারী মো. আবুল আনছারকে। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ম চালু আছে।

মিলারদের অনিচ্ছা থাকলেও দিতে হয় এই পয়সা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ময়দা মিলের ধারণক্ষমতা বা আয়তন অনুযায়ী ২০ থেকে ৩০ টন প্রতি মিলে গম সরবরাহ করে থাকে জেলা খাদ্য অফিস। মিলমালিকগণের অভিযোগ-৭০ পয়সা না দিলে হয়রানিতে পড়তে হয় বলে তারা সেটা দিয়ে থাকেন। মেসার্স লালন শাহ্ ফ্লাওয়ার মিলের প্রতিনিধি করিম মানবজমিনকে বলেন, আমরা প্রত্যেক মিলমালিক গম নেয়ার সময় আনসার ভাইকে প্রতি কেজি গমের জন্য ৭০ পয়সা করে প্রদান করে থাকি, সব মিলার দেন তাই আমাদেরও দিতে হয়। তবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, আগে এই অফিসে উচ্চমান সহকারী ফিরোজ নামের একজন ছিলেন, তিনি থাকতেও মিলারদের কাছ থেকে ৭০ পয়সা করে আদায় করতেন, তারপর থেকেই এভাবে চলতে থাকে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের উচ্চমান সহকারী মো. আবুল আনছার অস্বীকার করে বলেন, অর্থনৈতিক কোনো লেনদেন আমার সঙ্গে কারও নেই। এছাড়াও অভিযোগ পাওয়া গেছে, আটা সরবরাহকারী মিলগুলোর কয়েকটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা না নিয়ে বরাদ্দ অব্যাহত রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেসার্স লালন শাহ্ ফ্লাওয়ার মিল বন্ধ রয়েছে। তারপরও বরাদ্দ পেয়ে যাচ্ছে এই মিল। অভিযোগ রয়েছে অফিসকে ম্যানেজ করে এই মিল সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে। কুষ্টিয়া ফ্লাওয়ার মিলেও তাদের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, তারপরেও গম বরাদ্দ পেয়ে যাচ্ছেন।  বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ওএমএস ডিলারকে নিজে এসে ডিও করে চাল, আটা নিতে হবে। কিন্তু একাধিক ডিলার ঢাকায় অবস্থান করলেও তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে ডিও করিয়ে চাল, আটা তুলে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক আব্দুল খালেক বলেন, প্রায় প্রতিটি ডিলারই নিজে এসে ডিও করেন, বেশক’জন ডিলার স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করেন- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান। কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আল ওয়াজিউর রহমান বলেন, মিলারদের কাছ থেকে ৭০ পয়সা করে নেয়ার ব্যাপারটা আমার জানা  নেই, যদি অভিযোগ পাই তদন্ত করে দেখবো। ওএমএস ডিলারদের উপস্থিত থেকে ডিও করার ব্যাপারে তিনি বলেন, ৫ই আগস্টের পর একটা নিয়ম করা হয়েছিল সকলকে উপস্থিত থেকে ডিও করতে হবে। কিন্তু কয়েকজন অসুস্থ ছাড়াও অনেকে উপস্থিত হতে পারেননি, এজন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা ছাড় দিয়ে থাকি। বন্ধ দু’টি মিলে গম সরবরাহের ব্যাপারে তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মেসার্স লালন শাহ্ ফ্লাওয়ার মিলে বরাদ্দ বন্ধ করেছি, কুষ্টিয়া ফ্লাওয়ার মিল তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও আমরা গম দিলে তাদের কাজ অব্যাহত থাকে।