কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে যাত্রীসেবা’র মান নিন্মমানের
কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন কুষ্টিয়াবাসীর নিকট যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। বর্তমানে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন দিয়ে আপ-ডাউন মিলে মোট ৮টি আন্তঃনগর এবং ৮টি লোকাল ট্রেন যাতায়াত করে এবং সেই ট্রেন গুলোতে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার মানুষ যাতায়াত করে। অথচ স্টেশনের সেবা মান সেই তুলনায় অত্যন্ত বাজে এবং অপ্রতুল। গত ২রা নভেম্বর থেকে কুষ্টিয়ার সাথে সরাসরি ঢাকা’র রেল যোগাযোগ শুরু হওয়ার পর থেকে জনসাধারণের নিকট এই স্টেশনের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। স্টেশনের গুরুত্ব বাড়লেও সেই তুলনায় যাত্রী সেবার মান খুবই নিন্ম মানের।

কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে যাত্রীসেবা’র মান নিন্মমানের
স্টেশনের অবকাঠামোগত ও শৌচাগার সমস্যা ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। যার ফলে যাত্রীরা সব সময় নানান সমস্যার সন্মুখীন হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে একটি বিশ্রামাগার থাকলে সেটি বন্ধ থাকে অধিকাংশ সময়। যার ফলে নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না পৌঁছালে বা ট্রেন পৌঁছাতে বিলম্ব হলে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। যা রীতিমত বিরক্তিকর। প্রতিবন্ধী বা বয়স্কদের জন্য এই সমস্যা আরো যন্ত্রণাদায়ক। এছাড়াও সেটশনের প্লাটফর্মে যা সামান্য বসার মত জায়গা আছে, তার অধিকাংশই দখলে থাকে ছিন্নমূল মানুষের। স্টেশনে একটি মাত্র টয়লেট থাকলে সেটি সব সময় তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখে স্টেশন কর্তৃপক্ষ। যার ফলে কোন যাত্রী জরুরী টয়লেটের যাওয়ার প্রয়োজন হলে স্টেশন থেকে দূরে কোথাও যেতে হয়। অবশ্য অনেক পুরুষ যাত্রী লাজ লজ্জা ত্যাগ করে স্টেশনের পাশে কুষ্টিয়া মডেল থানার সীমানা প্রাচীরের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ সেরে নেন। এই দৃশ্য কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের নিত্য দিনের ঘটনা। এর ফলে কুষ্টিয়া মডেল থানার সীমানা প্রাচীরের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
এছাড়াও স্টেশনে কর্মরত কর্মচারী ও কর্মকর্তারা অধিকাংশ সময়েই উপস্থিত থাকেন না তাদের কর্মস্থলে। রাতে যে সকল ট্রেন কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায় সেই সময়েও টিকিট কাউন্টার বন্ধ দেখা যায় অধিকাংশ সময়ে। যার ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমনে বাধ্য হয়। নিয়মিত অনেক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন টিকিট কাউটন্টার বন্ধ থাকার ফলে বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণে বাধ্য হতে হয়, কিন্তু টিকিট না থাকার ফলে ট্রেনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে হয়রানির শিকার হতে হয়। কোন কোন সময় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়। আবার অর্থ দিলেও দেওয়া হয় না টিকিট বা ভাউচার। যার ফলে সরকার তার প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়।
কুষ্টিয়া পোড়াদহ এবং কুমারখালী থেকে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপাড়া করে এমন কয়েকশত ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন ট্রেনে করে যাতাওয়াত করে। এমন কয়েকজন ছাত্রীর সাথে কথা হলে তারা জানান, কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে টয়লেট বা শৌচাগার অত্যন্ত জরুরী। যদিও একটি টয়লেট আছে কিন্তু সেটা কোনদিন খোলা হয় না, সব সময় তালা বন্ধ থাকে। টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হলে আমাদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।

কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন থেকে ঢাকাগামী কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা হলে তারা জানান, স্টেশনে একটি মাত্র টয়টেল যা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। যাত্রীদের টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও কোন উপায় নেই। এছাড়াও যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, যে বিশ্রামাগার রয়েছে সেখানে বসার মত কোন পরিবেশ নেই এবং প্রয়োজনের তুলনার জায়গা খুবই কম ও নোংড়া। স্টেশনের অধিকাংশ জায়গা ছিন্নমূল মানুষের দখলে থাকার কারণে প্লাটফর্মেও বসা যায় না, ট্রেন আসতে দেরী হলে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কোন উপায় থাকে না।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে স্টেশন মাস্টারের পদ না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে স্টেশন ইনচার্জ দিয়েই চলছে স্টেশনের সমস্ত কর্মকান্ড। ইতি আরা খাতুন গত ৭ বছর কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে কর্মরত রয়েছেন এবং শেষ চার বছর তিনি স্টেশনের ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ সমস্ত অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের ইনচার্জ ইতি আরা খাতুন বলেন, ২৪ ঘন্টার জন্য টিকেটিং স্টাফ মাত্র দুই জন ছিলো, তাই এতদিন রাত্র ২টার পর থেকে টিেিকট কাউন্টার বন্ধ ছিলো । আজ (১০ নভেম্বর) নতুন একজন যোগদান করেছে। এখন থেকে রাতেও টিকিট কাউন্টার খোলা থাকবে । টয়লেট তালা বন্ধ প্রসঙ্গে ইতি আরা খাতুন বলেন, বিশ্রামাগারের সাথে একটি টয়লেট আছে, কিন্তু খোলা রাখলে টয়লেটের মধ্যে অনেকেই ফেন্সিডিল সেবন করে। তাই বন্ধ রাখা হয় । আরা খাতুন আরো বলেন, বর্তমানে স্টেশনে মাত্র একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী রয়েছে। তার পক্ষে ২৪ ঘন্টা কাজ করা সম্ভব নয়। আমি চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী বাড়ানোর বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আশাকরি এই সমস্যা থাকবে না।
এবিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে’র মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) অসীম কুমার তালুকদারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি আপনার কাছ থেকে প্রথম শুনলাম, আগে দেখে নি, পরে কথা বলবো।
