কুষ্টিয়া কোর্টে জামিন নিতে এসে জেলহাজতে নারী প্রতারক ডোনা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া কোর্টে জামিন নিতে এসে জেলহাজতে নারী প্রতারক ডোনা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুলাই ১০, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় ফ্লাট ক্রয় ও রেজিষ্ট্রি করানোর নামে আমেরিকান প্রবাসী মামার কাছ থেকে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং প্রতারণার মামলায় জামিন নিতে এসে প্রধান আসামী সুরাইয়া সুম্মা ডোনা গ্রেফতার হয়েছেন।  মঙ্গলবার (৯ জুলাই) আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে জেলা জজ আদালত কুষ্টিয়ার আদালতে জামিন নিতে গেলে বিজ্ঞআদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেলখানায় প্রেরণ করার নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গ মতে, অভিযুক্ত সুরাইয়া সুম্মা ডোনা তার মামা আমেরিকান প্রবাসী মোহাম্মদ ফেরদৌস রহমানের কাছ থেকে তার মামার নামে ফ্লাট ক্রয় ও রেজিষ্ট্রি করানোর নামে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা নেয়। অভিযুক্ত ডোনা টাকা নিয়ে ফ্লাট ক্রয় ও রেজিষ্ট্রি করে না দিলে গত ৮ এপ্রিল ভুক্তভোগী আমেরিকান প্রবাসী মোহাম্মদ ফেরদৌস রহমানের ভাতিজা ফরিদুর রহমান বাদী হয়ে এই বছরের ৮ এপ্রিল পেনাল কোড-১৮৬০ এর ৪০৬/৪২০/১০৮ধারায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় প্রধান আসামি সুরাইয়া সুম্মা ডোনা, তার স্বামী লিটু তাফাদার, ডোনার বাবা মো: রবিউল করিম ও তার স্ত্রী মোছাঃ ইয়াসমিন আক্তার মালার নামে মামলা দায়ের করেন।

মামলা নং:-১০৪/২৪। এই মামলায় প্রধান আসামি সুরাইয়া সুম্মা ডোনা জেলখানায় এবং বাকি তিন আসামি জামিনে রয়েছে। এজাহার সুত্রে জানা যায়, আমি ফরিদুর রহমান (৩০), এনআইডি নং-৪৬১৮১৯১৬৬৪, পিতা- আব্দুল কুদ্দুস, সাং-ঢাকা ঝালুপাড়া, পোঃ জগতি, থানা ও জেলা-কুষ্টিয়া। আপনার থানায় আসামী সুরাইয়া সুম্মা ডোনা (২২), পিতাঃ মোঃ রবিউল করিম, স্বামী-লিটু তাফাদার, সাং-ঢাকা ঝালুপাড়া, থানা ও জেলা-কুষ্টিয়া, ২। লিটু তাফাদার (৪৮), পিতা: মৃত জয়নাল আবেদীন, সাং- ১৯৯ পূর্ব গোরান (পানির পাম্পের পাশে), রোড নং-ছে, খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯, উভয় বর্তমান ঠিকানা বাসা নং-৩৫. ডোর নং-০৪, রোড নং-০৩, ব্লক বি আফতাবনগর, রামপুরা, দ্বারা, ৩। মোঃ রবিউল করিম (৫২), পিতা: মৃত আনছার আলী ফকির, ৪। মোছাঃ ইয়াসমিন আক্তার মালা (৪২), স্বামী: মোঃ রবিউল করিম, উভয় সাং: ঢাকা ঝালুপাড়া, থানা ও জেলা: কুষ্টিয়া, আসামী সুরাইয়া সুম্মা ডোনা ও আসামী লিটু তাফাদার পরস্পর স্বামী স্ত্রী এবং আসামী রবিউল করিম ও ইয়াসমিন আক্তার মালা পরস্পর স্বামী-স্ত্রী এবং যাহা ১নং আসামীর পিতা-মাতা হইতেছে।উল্লেখিত আসামীরা আমার আত্মীয় হইতেছে। মোহাম্মদ ফেরদৌস রহমান (৫৪), পিতা: মৃত রমজান আলী মন্ডল, সাং: ঢাকা ঝালুপাড়া, থানা ও জেলা: কুষ্টিয়া, আমার আপন চাচা। যিনি বর্তমানে আমেরিকায় বসবাসরত।

আমার চাচা ফেরদৌস বাংলাদেশে অবস্থানকালে কক্সবাজারস্থ (জঋ) আরএফ বিল্ডার্স লিমিটেডের এপার্টমেন্ট ক্রয়ের উদ্দেশ্যে সর্বমোট ৩২ লক্ষ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা আরএফ বিল্ডার্স কর্তৃপক্ষকে প্রদান করে। পরবর্তীতে আমার চাচা ফেরদৌস রহমান আমেরিকায় চলে যেতে বাধ্য হয়। আমেরিকায় যাওয়ার পূর্বে আরএফ বিল্ডার্স কর্তৃপক্ষ আমার চাচাকে বর্নিত ফ্ল্যাটের বাঁকী পাওনা টাকা পরিশোধ করিয়া ফ্ল্যাটটি আমার চাচার নামে রেজিষ্ট্রী করিয় নিতে বলে। এমতাবস্থায় উক্ত আসামীরা আমার চাচার সম্পর্কে আপন ফুফাতো বোনের মেয়ে, ভাগ্নী জামাই, ফুফাতো দুলাভাই ও ফুফাতো বোন। আসামীদের বাড়ী আমার চাচা ফেরদৌসের বাড়ী পাশাপাশি হওয়ায় আমার চাচার কক্সবাজারস্থ উল্লেখিত ফ্লাটটির বাঁকী টাকা পরিশোধ করতঃ রেজিষ্ট্রী করনের বিষয় জানিতে পারে।

তখন আসামীরা পরস্পর শলা পরামর্শ করিয়া তাদের মাধ্যমে আরএফ বিল্ডার্স এর পাওনা টাকা পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ জানায়। যেহেতু আমার চাচা বিদেশে থাকে এবং আসামীরাও আমার চাচার আত্মীয় স্বজন তাই আমার চাচা সরল বিশ্বাসে আসামীদের কথায় তাদের মাধ্যমে আরএফ বিল্ডার্স এর বাকী পাওনা টাকা ও রেজিষ্ট্রী সংক্রান্ত যাবতীয় খরচাদি প্রদান করিতে রাজি হয়। তারই প্রেক্ষিতে আমার চাচা ফেরদৌসের নির্দেশ মতে ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড কুষ্টিয়া শাখা কুষ্টিয়ায় আসামী ডোনা এর নামীয় ১৬৮১৫৮০০৪৯৪৯৯ নম্বর একাউন্টে (১) ইং ০১/০৮/২০২৩ তারিখে চার লক্ষ টাকা একই ব্যাংকে একই একাউন্টে (২) ০৯/০৮/২০২৩ তারিখে ০৩ লক্ষ টাকা, (৩) ২১/০৮/২০২৩ তারিখে ২ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা, (৪) ২৯/০৮/২০২৩ তারিখে ১ লক্ষ টাকা, (৫) ০৩/০৯/২০২৩ তারিখে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, (৬) ১৩/০৯/২০২৩ তারিখে ২ লক্ষ টাকা, (৭) ১৮/০৯/২০২৩ তারিখে তিন লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, (৮) ২৩/১০/২০২৩ তারিখে ০৮ লক্ষ টাকা, (৯) ১৩/১১/২০২৩ তারিখে ০৪ লক্ষ টাকা, (১০) ১৫/১১/২০২৩ তারিখে ২ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা, (১১) ১৭/১২/২০২৩ তারিখে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, (১২), ১০/১২/২০২৩ তারিখে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, সর্বমোট ৩৫,৫৪০০০/-টাকা হাজার টাকা এবং চাচার তার মামাতো ভাই মোঃ আল ইমরান তার ডাচ বাংলা ব্যাংকের নিজ ১৬৮১৬৩৮৩ নম্বর একাউন্ট হইতে আসামী ডোনার ডাচ বাংলা ব্যাংকের উল্লেখিত একাউন্টে (১) ১১/০৯/২০২৩ তারিখে ৫০ হাজার টাকা, (২) ১৪/০৯/২০২৩ তারিখে ০৮ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা, (৩) ২৪/০৮/২০২৩ নগদ ৬৫ হাজার টাকা, (৪) ০৩/০৯/২০২৩ তারিখে নগদে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, (৫) ১০/০৯/২০২৩ তারিখে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, মোট ১২,২৮০০০/-  টাকা প্রদান করে। উল্লেখ্য যে, নগদে প্রদান ব্যতীত আমার ও ইমরান কর্তৃক আসামী ডোনা এর একাউন্টে প্রেরিত টাকার ব্যাংক রশিদ আছে।

আমার চাচা ফেরদৌসের অনুরোধে কুষ্টিয়া শহরস্থ বিশ্বাস ট্রেডিং এর অন্যতম মালিক মোঃ আনিসুর রহমান (উক্ত চাচার বন্ধু) বিভিন্ন তারিখে আসামী ডোনাকে ১২,৬১০০০/- হাজার টাকা প্রদান করে। অন্যদিকে আমার চাচা ফেরদৌস রহমান আমেরিকায় গিয়ে ম্যানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ১২০৬৮২৪২৪৭০, ঝঊঈ ১- ০১৭৮৮২২২, ২২১২০৩৫৪৪ পিন কোডে দেওয়া টাকা সহ সর্বমোট ১,৫৩,০০০/-টাকা ১নং আসামীকে পাঠায়। আমার চাচার বন্ধুর স্ত্রী মিশু তার নিজ নামীয় ডাচ বাংলা ব্যাংকের ৬০৩২০১০০০০১৬৯৮৫ নম্বর একাউন্ট থেকে আসামী ডোনার ব্যাংক একাউন্টে ২,০০,০০০/- টাকা প্রেরন করিলে আসামী ডোনা উহা গ্রহন বা উত্তোলন করে। এছাড়াও আমার চাচার তার আমেরিকান ব্যাংক একাউন্ট থেকে ২নং আসামীর নামীয় ওয়ান ব্যাংক এর ০৩৯২০৫০০৩৬০৯৯ নম্বর একাউন্টে ১৩,৪৮,০০০/- হাজার টাকা প্রদান করেন।

আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে আমার চাচার নিকট থেকে সর্বমোট ৭৭,৪৪,০০০/-টাকা টাকা গ্রহন করিয়া ১নং আসামী ডোনা তার হোয়াটসএ্যাপস ও ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে একটি রেজিষ্ট্রীকৃত দলিলের কপি আমার চাচা ফেরদৌসের নিকট ২০২৩ সালের ২৫ জুন প্রেরন করে। যাহা কক্সবাজার সদর সাব রেজিষ্ট্রী অফিসের দলিল নম্বর ৩৫৫১। আর এফ বিল্ডার্সের অফিসে খোঁজ নিয়া আমরা জানিতে পারি, কক্সবাজার সাব রেজিষ্ট্রী অফিসের উল্লেখিত দলিল আমার চাচা ফেরদৌসের নামে রেজিষ্ট্রী হয় নাই কিংবা ১নং আসামী ডোনা ও ২নং আসাসী লিটু সহ কোন আসামী আর এফ বিল্ডার্সের নিকট কোন টাকা জমা দেয় নাই, দলিলটি ভুয়া।

পরবর্তীতে আমার চাচা আসামীদের সাথে যোগাযোগ করিলে তারা এলোমেলো কথাবার্তা বলিতে থাকে। এক পর্যায়ে আমার চাচার নির্দেশে গত এই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারী রাত্র অনুমান ১১ টার সময় কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন ঢাকা ঝালুপাড়াস্থ ১নং আসামীর বসত বাড়ীতে গিয়ে সকল আসামীদের উপস্থিত পাইয়া আসামীদের কাছে আমার চাচার প্রদানকৃত টাকা ফেরত চাইলে আসামীরা তালাবাহানা করিতে থাকে। এক পর্যায়ে আসামীরা আমাকে জানায় যে, ” তোর চাচার একটি টাকাও ফেরত দিবো না, পারলে তুই বা তোর চাচা আদায় করে নিস”। আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে আমার চাচার বিশ্বাস ভঙ্গ করিয়া প্রতারণামূলক ভাবে আমার চাচার সর্বমোট ৭৭,৪৪,০০০/-টাকা আত্মসাৎ করিয়াছে।